​মুভি – এক কা দম ( তেলেগু নাম নেনুক্কাদিনে) 

অভিনয় : সুপারস্টার মহেশ, কৃতি শ্যানন (আর কাউকে চিনিনা)

ডিরেক্টর : সুকুমার
ফাইট : পিটার হেইন
জেনর : সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার
আইএমডিবি রেটিং : ৮.৫/১০
আমার রেটিং : ৯/১০

https://www.bdnow24.com/category/রিভিউ/
অনেকের প্রিয় সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি গুলোর তালিকায় উপরের দিকে থাকবে। অনেকের মতে মহেশ এর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুভি এটি, আবার অনেকের মতে এটা টলিউড এর মাস্টারপিস গুলোর একটা। কিন্তু কথা হচ্ছে মুভিটি সবার জন্য নয়। যারা সাউথ মুভি দেখেন শুধু শুধু ধুমধাম মারামারি,কমেডি বা এন্টারটেইনমেন্ট এর জন্য,তাদের কাছে মুভিটি ভাল লাগার কথা না। কারণ, এ মুভি তে আপনি তথাকথিত সাউথ ইন্ডিয়ান বিনোদন পাবেন না। উলটো মুভিটি দেখতে গেলে আপনি প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে প্রতিটা সিকোয়েন্স আপনাকে কনফিউশন এ ফেলবে। আপনার ব্রেইন কে পাজল এর মধ্যে ফেলবে। সেই পাজল এর রহস্য সমাধান হবে একদম সিনেমার শেষ ১৫ মিনিটে। প্রতি মুহূর্তে যে উত্তেজনা আপনার ব্রেইনে তৈরি 

হবে, তার রেশ থাকবে মুভি শেষ হয়ে যাবার পরেও। মুভিটি দেখার সময় থেকে মুভি দেখা শেষেও অনেকক্ষন ঘোরের মধ্যে ছিলাম আমি।


অসংখ্য সাসপেন্সে ভরা মুভি টি। কাহিনি যেভাবে বাক নেয়,সেটা আপনাকে পুরো মুভি জুড়েই ভাবাবে। আপনার ব্রেইন প্রেশারে থাকবে মুভি দেখার পুরো টা সময়। সাইকোলজিকালি আপনার ব্রেইন যেভাবে ডাইভার্ট হবে প্রতি মুহূর্তে, সেটা অনেকেই নিতে পারেনা। আর তাই তাদের কাছে মুভিটা হতাশাজনক বা ওভাররেটেড লাগবে….
ছবি এত সাসপেন্স আর টুইস্টে ভরা যে সেটা সংক্ষেপ এ প্রকাশ করা আমার পক্ষে সম্ভব না। প্লট টা নিয়ে তাও ধারণা দেয়ার চেস্টা করি। 
ছবির কাহিনি এক বিখ্যাত রকস্টারের বাবা মার পরিচয় খোজা কে কেন্দ্র করে। এই রকস্টার এর চরিত্রেই অভিনয় করেছেন মহেশ। ছোটবেলায় চোখের সামনে দুজন অজ্ঞাতনামার হাতে বাবা মাকে খুন হতে দেখে,এরপরে এক এতিমখানায় সে বড় হয়। এবং এক পর্যায়ে রকস্টার। সে প্রায়ই একপ্রকার ইলিউশান এ ভোগে। প্রায়ই মনে করে কেউ তাকে খুন করে ফেলবে যারা তার বাবা মা কে খুন করেছিল। কৃতি শ্যানন একজন রিপোর্টার। মহেশ এর এক কনসার্ট কভার করতে আসে। কনসার্ট এর মাঝে কেউ একজন মহেশ কে গুলি করে। তারপর মহেশ কনসার্ট থেকে বেরিয়ে তাকে চেইজ করে এক পর্যায়ে ধরে ফেলে। এবং মারামারির পর্যায়ে তাকে মেরে ফেলে। আর পুরোটা সময় মহেশ কে ক্যামেরা নিয়ে ফলো করে কৃতি শ্যানন। মহেশ এরপর পুলিশের কাছে গিয়ে নিজের খুন করার কথা বলে। এরপর সারা মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। ঠিক তখন ই কৃতি শ্যানন একটি মিডিয়ায় তার রেকর্ড করা মহেশ এর এক্সক্লুসিভ ভিডিও টি দেখায়। এরপর কি হয়? বললাম না,,দেখে নিবেন। কৃতি এরপর চেস্টা করে মহেশ কে ভাল করে তোলার। কিন্তু মহেশ কিছুতেই বিশ্বাস করতে চায় না। এক পর্যায়ে কৃতির মাধ্যমে এক হত্যাকারী কে খুজে পায় মহেশ এবং একই সাথে খুজে পায় মারা যাবার আগে তার বাবার রেখে যাওয়া একটি থলে, যেটার মধ্যে থাকে একটি পাজল, একটি চাবি আর একটি ব্রিটিশ কয়েন। এই পাজল সমাধান করে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বাবা মার সূত্র খুজে অয়ায় মহেশ। সেই সাথে শত্রুদের সাথেও পরিচয় ঘটে। শেষ পর্যন্ত মহেশ তার বাবা মাকে  খুজে পায় কি পায় না,কিভাবে খুজে পায় তার জন্য আপনাকে মুভি টি আপনাকে দেখতে হবে।
ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি কারণ,প্লট টা আমি ঠিকমত বলতে পারিনি। আমার লেখা সারসংক্ষেপ দেখে মুভিটি একেবারেই ইন্টারেস্টিং মনে হবেনা। কিন্তু বিলিভ মাই ওয়ার্ড,  মুভিটা আপনি দেখেন, লাস্ট পর্যন্ত আপনাকে সাসপেন্সে রাখবে। আপনার কাহিনি বুঝতেই শেষ পর্যন্ত দেখা লাগবে। প্রথমবার দেখার সময় আপনি কিছুতেই বুঝে উঠতে পারবেন না কাহিনি কোথায় মোড় নিতে পারে। কাহিনিটা আসলে কিসের উপর?  পুরো মুভি দেখার সময় সাইকোলজিকালি আপনার ব্রেইনে প্রেশার ও পড়তে পারে। সেটা যদি সহ্য করতে পারেন,তবেই মুভিটি আপনার ভাল লাগবে 🙂
পুরো মুভিতে মহেশ বরাবরের মত ফাটিয়ে দিয়েছেন। মহেশ বাবু দেখতে এত সুন্দর, যে পুরো মুভিতে এমনিতেই তার প্রতি আলাদা একটা আকর্ষণ থাকবেই। হিন্দি ডাবড দেখার কারণে তার অরিজিনাল ভয়েস টা যদিও মিস করসি 🙁 ইশ, মহেশ এর মুভি গুলার হিন্দি ডাবিং এ ও যদি মহেশ থাকত খুব ভাল হত 🙁 স্পেশালি চেজিং এর দৃশ্যগুলো তে মহেশ জাস্ট অসাধারণ ছিল। ইংল্যান্ডের রাস্তায় যেভাবে ভিলেনের পিছু নিলেন মাঝে মাঝে মনে হয় এগুলো সাউথে কিভাবে সম্ভব। হলিউডের স্টাইল একশন সিন।
 উড়াধুরা একশন আমার পছন্দ না। রিয়েলিস্টিক ফাইট আমার পছন্দ।  আর ফাইটিং কে পিটার হেইন অতিমানবীয়তা থেকে মানবীয় শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সাউথের সেরা ফাইট ডিরেক্টরদের একজন পিটার হেইন। বলা বাহুল্য, ফাইটিং এ পিটার হেইন এর নাম শুনেই আমার আগ্রহ বেড়ে গিয়েছিল। আমি পিটার হেইন কে চিনি Attantikiti Daredi থেকে। সেখানে তার ফাইট ডিরেকশন দেখে ফ্যান হয়ে গেসিলাম। তারপর সুদীপের রান্না তে আরো ভাল কিছু দেখিয়েছিলেন। এক কা দম দেখে  বলতে দ্বিধা নেই, পিটার হেইন এর নামেই মুভির প্রতি আলাদা আকর্ষণ তৈরি হবে। এক কা দমের প্রতিটা চেজিং আর একশন সিনে যা তিনি দেখিয়েছেন, যে থ্রিল টা তিনি দর্শকদের দিয়েছেন তা যেকোন দর্শক ই অনেকদিন মনে রাখবে।
নায়িকা কৃতি শ্যানন কে আমার অনেক ভাল লেগেছে। অসাধারণ সুন্দরি সে। এটা তার প্রপথম ছবি একদম ই মনে হয়নি। তার সৌন্দর্য একদম ই আটকে রেখেছিল মুভি তে। সাউথে কেউ ডেব্যু করলে পারফরমেন্স দেখে বোঝা মুশকিল সে আদৌ নতুন কিনা। আর কৃতির পারফরমেন্সে ল্যাকিং খুব একটা চোখে পড়েনি বরং অনেক সিনিয়র অভিনেত্রিদের মতই মনে হয়েছে।
নেগেটিভ বলতে তেমন কিছু পাইনি। আসলে এতটা ঘোরে আছি, আমি আসলে মুভিটার নেগেটিভ কিছু বের করতে পারিনি। তবে মহেশ কিভাবে রকস্টার হয় সেটা যদি অল্প করে দেখানো যেত তবে মে বি আরো পারফেক্ট হত। অরফানেজ থেকে রকস্টার,খানিকটা খটকাই লাগে।
ওভারল, পুরো মুভিটি আমার কাছে এনজয়েবল লেগেছে। প্রচলিত যেকোজ সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি থেকে একদম ই আলাদা।  মুভিটার প্রতিটি সিকোয়েনস আনপ্রেডিক্টেবল। কাহিনি  বুঝতে হলে কপাট আপনাকে একদম শেষ দৃশ্য পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এক মুহূর্ত ও পর্দা থেকে চোখ সরাতে পারবেন না। আর হা, পরিচালক আর কাহিনিকারের ক্রেডিট সবথেকে বেশি দিব। তারা আসলেই সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার একদম সংজ্ঞাসহ উদাহরণ দর্শক দের বুঝিয়ে দিয়েছেন। দর্শকদের অনেক বেশি ভাবিয়েছেন। আফসোস, মুভিটা বক্স অফিসে সফল ছিল না। এটি হতে পারত টলিউডের ইতিহাস এর সবথেকে ব্যাবসাসফল ছবি। কিন্তু দর্শক হয়ত মারদাঙ্গা একশন যুক্ত সহজ গল্পের মুভি হলে দেখতে পছন্দ করে। এ ছবি হয়ত দর্শকদের ব্রেইন নিতে পারেনাই,তাই হয়ত বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি 🙁  কিন্তু এটা মহেশ এর সেরা মুভিগুলোর একটা।  এমনকি টলিউড এর সেরা মুভিগুলোর কাতারে ফেললেও বোধহয় ভুল হবেনা 🙂
লিখেছেন: নুহান তাহেরি 

Be the first to comment on "​মুভি – এক কা দম ( তেলেগু নাম নেনুক্কাদিনে) "

Leave a Reply