হাওরের দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন 

হাওর রক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ধীরগতির অভিযোগ তদন্তে গত ৯ এপ্রিল গঠিত তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার পুনর্গঠন করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, প্রত্যেক জায়গায় একটা ক্ষোভ আছে যে (হাওরের বাঁধ নির্মাণে) দুর্নীতি হয়েছে। পানি ঢোকা এবং দুর্নীতি দুটো আলাদা জিনিস। বাঁধ উপচে পানি ঢুকলেও কিন্তু দুর্নীতি হতে পারে। যেহেতু জনগণের মধ্যে ক্ষোভ আছে, আমরাও মনে করি স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া উচিত।

https://www.bdnow24.com/category/বাংলাদেশ/
গত মাসের শেষ দিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা তলিয়ে যায়। দুর্বল ও অসমাপ্ত বাঁধ ভেঙে প্লাবন ও ফসলহানির পেছনে বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দুর্নীতিকে দায়ী করে ঢাকায় মানববন্ধন ও সভা-সমাবেশও হয়। এসব ঘটনায় মঙ্গলবার সিলেটের তিন প্রকৌশলীকে বরখাস্ত করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

সিলেটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল ইসলামকে বরখাস্ত করে মৌলভীবাজারের তত্ত্ববাধায়ক প্রকৌশলী এস এম সহিদুল ইসলামকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সিলেট অঞ্চলের ভার দেয়া হয়েছে।

বরখাস্তকৃত সিলেটের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাইয়ের জায়গায় পাউবোর কুমিল্লার প্রধান প্রকৌশলী মো. মোসাদ্দেক হোসেন নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

বরখাস্ত তিন প্রকৌশলীকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকের দপ্তরে সংযুক্ত দিয়ে আদেশে বলা হয়েছে, এরা বিধি মোতাবেক বেতনভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন।

কমিটি পুনর্গঠন

হাওর রক্ষা বাঁধের নির্মাণ ও সংস্কার কাজে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ধীরগতির অভিযোগ তদন্তে গত মাসে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করলেও তা পুনর্গঠন করে চার সদস্যের করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। পানিসম্পদমন্ত্রী জানান, আগাম বন্যায় প্লাবিত হাওর রক্ষা বাঁধের নির্মাণ ও সংস্কার কাজে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ধীরগতি সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে গত ৯ এপ্রিল মন্ত্রণালায়ের যুগ্ম-সচিব মো. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে এক সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। ওই কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে জানিয়ে আনিসুল ইসলাম বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মোহাম্মদ আলী খানকে আহ্বায়ক এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (প্রশাসন) মো. খলিলুর রহমান ও পাউবোর চিফ মনিটরিং কর্মকর্তা কাজী তোফায়েল হোসেনকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-প্রধান মন্টু কুমার বিশ্বাসকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে ২১ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিকে সুনামগঞ্জসহ আগাম বন্যায় প্লাবিত অন্যান্য জেলার হাওর রক্ষা বাঁধের নির্মাণ ও সংস্কার কাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ধীরগতির হয়েছে কি না; হয়ে থাকলে তার কারণ খুঁজে বের করার পাশাপাশি দায়ীদের চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। আগাম বন্যা থেকে হাওর এলাকার ফসল রক্ষার বিষয়ে কী কী ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে সে বিষয়েও কমিটিকে সুপারিশ দিতে হবে।

তদন্তে সহযোগিতার জন্য কমিটি হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা, সিইজিআইএস ও আইডব্লিউএম-এর যেকোনো কর্মকর্তাকে প্রয়োজনে কো-অপ্ট করবে পারবে এবং কারিগরি সহযোগিতা নিতে পারবে বলেও আদেশে বলা হয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অধিশাখা এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন তদন্ত কাজে সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে।

অন্যদিকে সুনামগঞ্জ, সিলেট ও নেত্রকোণা জেলার হাওর এলাকায় আগাম বন্যা ও হাওরের ফসল বিনষ্ট হওয়ার কারণ এবং বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে গত ৯ এপ্রিল পাউবোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পূর্বাঞ্চল) এ কে এম মমতাজ উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে আরেকটি তদন্ত কমিটি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এই কমিটিকে পিআইসি গঠনের জন্য কবে পত্র দেয়া হয়েছে এবং কবে পিআইসির সদস্যদের মনোনয়ন পাওয়া গেছে সে বিষয় তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।

ডিপিপির অন্তর্ভুক্ত ঠিকাদারের মাধ্যমে বাস্তবায়িত কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই, পিআইসির মাধ্যমে বাস্তবায়িত বাঁধের কাজের সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদন সংগ্রহ ও যাচাই এবং কাজে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তার কারণ অনুসন্ধান ও দায় দায়িত্ব নির্ধারণ করতে হবে।
সূত্র : ঢাকা টাইমস 

Be the first to comment on "হাওরের দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন "

Leave a Reply