স্মার্টফোনের আসক্তি দূর করবেন যেভাবে।

বর্ত্তমান আমলে বেশ দরকারি একটা গ্যাজেট স্মার্টফোন। এ স্মার্টফোন দিয়ে কত কী-ই না করা যায়! যোগাযোগ রক্ষা থেকে শুরু করে গান শোনা, গেমস, কেনাকাটাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজ সারেন এর ব্যবহারকারীরা। কোথাও যাচ্ছেন? রাস্তায় জ্যামে আটকা, গাড়িতে বসে স্মার্টফোনে বুঁদ হয়ে আছেন! এখন যেন স্মার্টফোন ছাড়া চলেই না! কিন্তু প্রতি মুহূর্তে ফোনের পেছনে ব্যয় করা সঠিক নয়। আপনি চাইলেই এ আসক্তি দূর করতে পারেন।

 

স্মার্টফোন ছাড়া এক মুহূর্ত কল্পনা করতে না পারা আসক্তির নাম নমোফোবিয়া। এতে আক্রান্ত মানুষ তার স্মার্টফোনের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে গ্যাজেটটি ব্যবহার করলেও আসক্তি উচিত নয়। আর তাই এখানে বেশকিছু উপায় দেয়া হল- যেগুলো আপনার স্মার্টফোন আসক্তি দূর করতে সহযোগিতা করতে পারে।

 

স্মার্টফোনের নোটিফিকেশন কাস্টমাইজ করুন

যত কম নোটিফিকেশন রিসিভ করবেন, তত কম স্মার্টফোনটি চেক করবেন আপনি। কেননা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, মানুষ তার স্মার্টফোনে আসা নোটিফিকেশনগুলো অগ্রাহ্য করতে পারে না। আর সৌভাগ্যক্রমে স্মার্টফোনে নোটিফিকেশন সীমিত করা যায় যা কিনা তা আপনাকে কখনও বিরক্ত করবে না।

 

স্মার্টফোন ব্যবহার সীমিত করুন

দিনে কতবার স্মার্টফোনটি চেক করবেন, সে সময় নির্ধারণ না করে কোন কোন সময় চেক করবেন না সেটি নির্ধারণ করুন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, খাবারের সময় কিংবা সামাজিক কোনো আসরে ফোনটি চেক করা বন্ধ করুন।

 

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ থেকে মুক্তি নিন

ফেসবুক বা টুইটারের মতো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপস রাখা জরুরি নয়। এটি যেমন আপনার সময় নষ্ট করে তেমনি আপনার স্মার্টফোনের বেশকিছু মেমোরিও খেয়ে ফেলে।

 

বিছানায় যাওয়ার আগে ফোনটি সুইচ অফ করুন

বিছানায় গিয়ে ফোনটির সুইচ অফ করা অনেক সহজ হলেও অনেক ক্ষেত্রে মানুষ তা করে না। তাই ঘুমোতে যাওয়ার আগেই ফোনের সুইচ অফ করুন। কেননা এরপর সেটি ব্যবহার করার প্রয়োজনই পড়ে না।

 

অ্যাপের সাহায্য নিন

স্মার্টফোন ব্যবহারকে সীমিত করতে সাহায্য করতে বেশকিছু অ্যাপ রয়েছে প্লে স্টোরে। রেসকিউ টাইম এবং অ্যাপ ডেটক্স এমনই কিছু অ্যাপস। আপনি এসব অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করে আপনার সুবিধামতো কনফিগার করে নিতে পারেন।

 

সময় দেখতে অ্যানালগ ঘড়ি ব্যবহার করুন

প্রায় সব মানুষই সময় দেখতে কিংবা অ্যালার্ম দিতে স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকে। এ অভ্যাসটি এখন কমন হয়ে গিয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায়- সময় দেখতে গিয়ে ফোনে আসা নোটিফিকেশনও চেক করতে শুরু করেন ব্যবহারকারীরা। আর তাই হাতঘড়ি পড়ার অভ্যাস করুন। স্মার্টফোনে অ্যালার্ম না দিয়ে ঘড়িতে অ্যালার্ম দিন।

 

ফিচার ফোনে ফিরে যান

আপনি যদি মারাত্মক আকারে স্মার্টফোন আসক্তিতে ভুগে থাকেন আর এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চান তাহলে বেশকিছু দিনের জন্য ফিচার ফোন ব্যবহার শুরু করুন। এরপর যখন আপনি মনে করবেন আপনার আসক্তি দূর হয়েছে তখন ফের স্মার্টফোনে ফিরে আসতে পারেন। যদিও এ কাজটি সহজ নয়, তবুও চেষ্টা করতে ক্ষতি কী।

Be the first to comment on "স্মার্টফোনের আসক্তি দূর করবেন যেভাবে।"

Leave a Reply