সম্পর্কে থেকেও অন্য কাউকে ভাল লাগছে? কে করবেন এখন ?

সম্পর্কে ওঠাপড়া লেগেই থাকে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য, ঝগড়া-বিবাদ বিরল নয়। এই পরিস্থিতিতে মানুষ এমন কাউকে খোঁজে, যে তাকে সঙ্গ দিতে পারবে। এখান থেকেই ‘ইমোশনাল সেক্স’-এর সূত্রপাত। সম্পর্কে থেকেও অন্য কাউকে ভাল লাগছে?

সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনমনে মানুষ মনে মনে একাকিত্ব বোধ করে। এই সময়ে মানুষ এমন সঙ্গীকে খোঁজে যে তাকে সঙ্গ দিতে পারবে। এই সম্পর্কই ধীরে ধীরে চূড়ান্ত আবেগধর্মী হয়ে ওঠে এবং ক্রমশই সেখানে মিশে যৌন-আকর্ষণ। এই ধরনের যৌনচেতনাকেই একটি বিশেষ ধারায় ফেলতে চান একদল মনোরোগ বিশেষঞ্জ।

এই বিশেষঞ্জদের মতে, এটা হল আবেগধর্মী যৌনতা বা ‘ইমোশনাল সেক্স’। বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ পারুল ট্যাঙ্কের মতে, ‘আবেগধর্মী যৌনতা আদতে বন্ধুত্বেরই চরমতম একটি পর্যায়। এই বন্ধুত্বের সম্পর্ক মনের মধ্যে এমন এক ভালবাসার স্তর তৈরি করে যে তা বিপরীত লিঙ্গের মানুষটি সম্পর্কে একজনের মনে যৌন সচেতনতা বাড়িয়ে দেয়। এটা শুধুমাত্র একজনের অনুভূতিও হতে পারে অথবা দু’জনের মধ্যেই এই চেতনার বিকাশ হতে পারে।’ তবে, ‘ইমোশনাল সেক্স’ শারীরিক সম্পর্ক তৈরির উপর নির্ভর করে না বলেই জানিয়েছেন মনোরোগ বিশেষঞ্জ পারুল ট্যাঙ্ক। তাঁর দাবি, ‘ইমোশনাল সেক্স’ আসলে ‘প্লেটোনিক লাভ’।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সম্পর্ক বুঝতে পারা খুব একটা সহজ নয়। তাই অনেক সময়েই অনেকে বন্ধু বা বান্ধবীর প্রতি এমনকিছু অস্বাভাবিক আচরণ করে বসেন যে তা সম্পর্কের অবনতি ডেকে আনে।

সীমা হিংগোর‌্যানিও একজন মনোরোগ বিশেষঞ্জ। তিনিও ‘ইমোশনাল সেক্স’ নিয়ে বহুদিন করে কাজ করছেন। তাঁর মতে, সম্পর্কে বিভিন্ন টানাপোড়েন কিংবা সঙ্গী বা সঙ্গিনীর থেকে প্রতারিত হয়েই শেষপর্যন্ত একজন মানুষ আবেগধর্মী যৌনতার পথ বেছে নেয়। আরও কিছু মনোরোগ বিশেষজ্ঞের মতে, অনেক সময়ে এমনও হয় যে, কাজের চাপে, কিংবা অন্য কোনও কারণে সঙ্গী বা সঙ্গিনীর প্রতি অবহেলা সেই মানুষটিকে তৃতীয় একজনের প্রতি অনুরক্ত করে তোলে। এখান থেকেই আবেগধর্মী যৌনতার সূত্রপাত হয়।

এইসব মনোরোগ বিশেষঞ্জদের পরামর্শ, আবেগধর্মী যৌনতার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন বুঝতে পারলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলাটাই শ্রেয়। সঠিক কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমে এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলেও তাঁদের মত।

Be the first to comment on "সম্পর্কে থেকেও অন্য কাউকে ভাল লাগছে? কে করবেন এখন ?"

Leave a Reply