রিভিউ (মুভি) : “Dextar”

আজ আমি আপনাদের রিভিউ শুরু করার পূর্বে ছোট একটি
গল্প শুনাবো।গল্পটি একটি অতি সাধারণ মেয়ের গল্প যে
কিনা বাস্তবে নিজের হাত দিয়ে একফোঁটা রক্ত বের হলেই
সারা বাসায় মাথায় তুলে চেঁচামেচি শুরু করে দেয়। কিন্তু
টিভি সিরিজ ও মুভির ক্ষেত্রে তার প্রথম পছন্দ হলো
অপরাধকে মূল ভিত্তি ধরে গড়ে উঠা গল্পগুলোই। আর সেটি
যদি সিরিয়াল কিলার নিয়ে গড়ে উঠা কোন কাহিনী হয়
তাহলে তো কথাই নেই। যে মেয়ে বাস্তব জীবনে মানুষ কি
করে এতো নির্মম হয় যে আরেকজন মানুষকে খুন করে ফেলে
এসব ভেবে ভেবে মন খারাপ করে ফেলে। সেই মেয়ে নাকি
পর্দার ভয়াবহ হত্যাকান্ডগুলোও হাঁ করে বসে বসে গিলে।
আর এই মেয়ের জীবনে ২০১৬ সালে এমন এক সিরিয়াল
কিলারের আবির্ভাব ঘটে যে কিনা মেয়েটির জীবনে
পূর্বে আগত সকল অপরাধ সংক্রান্ত গল্প ও অপরাধী-খুনিদের
পিছনে ফেলে আলাদা এক স্থান গড়ে নেয় মেয়েটির মন ও
মস্তিষ্কে। আর সেই বিশেষ সিরিয়াল কিলারটি আর কেউ
নয়, তিনি আমার কাল্পনিক ভালবাসা ” ডেক্সটার”। আর
মেয়েটি কে ছিলো সেটা তো বলার দরকার নেই নিশ্চয়ই?
তাহলে এবার “ডেক্সটার” সিরিজ নিয়ে কথাবার্তা শুরু করা
যাক। “ডেক্সটার” এমন একটি টিভি সিরিজ যা আপনি না
দেখে থাকলেও এর টিভি সিরিজ জিনিসটার সাথে
হালকাপাতলাও পরিচিতি থাকে, তাহলে কোন না কোন
উৎস থেকে, কখনো না কখনো আপনি এই টিভি সিরিজটির
কথা শুনেছেন এটা আমি মোটামুটি শিওর হয়েই বলতে পারি।
আজ থেকে প্রায় ১১ বছর আগে শুরু হওয়া এই সিরিজটি চার
বছর আগে শেষ হয়ে গেলেও তার রেশ এখনো ডেক্সটার
ভক্তদের মন থেকে কাটেনি। তাইতো এখনো যখন ক্রাইম
রিলেটেড টিভি সিরিজ নিয়ে আলোচনা হয়ে, ঘুরেফিরে
বারবার সকলের মুখেই ডেক্সটার! ডেক্সটার! এই একটি শব্দই
উচ্চারিত হতে থাকে। আসলে, ডেক্সটার শুধু একটি টিভি
সিরিজই নয়। ডেক্সটার হলো একটি টিভি সিরিজের,
খলনায়ক ও নায়কের সংমিশ্রণে সৃষ্ট এক অভূতপূর্ব কাল্পনিক
চরিত্র।
এবার প্লটের দিকে একটু ঘুরে আসা যাক। “ডেক্সটার”
সিরিজটি মূলত Jeff Lindsay এর ২০০৪ সালে প্রকাশিত হওয়া
উপন্যাস, “Darkly Dreaming Dexter” থেকে সংকলিত।ডেক্সটার
সিরিজের প্রথম সিজনের গল্প এই উপন্যাসের মূল ধারাকে
ঠিক রেখে পরিমার্জিত করে পর্দায় উপস্থাপনের যোগ্য
গল্প তৈরি করা হলেও, বাকি সকল সিজনগুলোর গল্পগুলো
সিরিজের নিজস্ব চিত্রনাট্যকার James Manos Jr. এর মুক্ত ও
স্বাধীন লেখনশৈলীর পরিবর্ধিত রূপ। সিরিজের গল্প গড়ে
উঠেছে ডেক্সটার নামক একজন পূর্ণ বয়স্ক, শিক্ষিত ও
সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত পুরুষের ও তার চারপাশের সকল
মানুষ ও সে যে শহরে বাস করে তার অপরাধ জগত নিয়েই গড়ে
উঠেছে। ডেক্সটার নামের এই লোক পেশায় মায়ামি মেট্রো
পুলিশ ডিপার্টমেন্টের একজন ফরেনসিক টেকনিশিয়ান।
কিন্তু তার আড়ালে ডেক্সটারের আরো একটি পরিচয় আছে,
যেটিকে একান্ত নিজের ভিতর পরম যত্নে ও অত্যন্ত
সর্তকতার সাথে বাহিরের দুনিয়া থেকে লুকিয়ে রেখেছে।
ডেক্সটারের পরিবার বলতে প্রথম সিজনে শুধু তার পালক
পিতার মেয়ে ডেব্রাকেই দেখানো হয়। ডেব্রার বাবার
একজন পুলিশ অফিসার ছিলেন, যিনি কিনা ড়েক্সটারকে
ছোটকাল থেকেই নিজের ছেলের মতনই আদর,যত্ন ও
ভালবাসা দিয়ে বড় করেছেন। আর এই পিতার মৃত্যুর পর,
ডেব্রাই ডেক্সটারের পুরো দুনিয়া হয়ে উঠে। ডেক্সটারের
পিতা শুধু ডেক্সটারের সেই দানবীয় সত্তার কথাই জানতেন
না বরং সেটিকে আংশিক সমর্থনও করেছিলেন। তাই
ডেক্সটার পিতার মৃত্যুর পরেও তার সকল কাজে,সকল
সিদ্ধান্তে, সকল পদক্ষেপে কল্পনায় পিতার সাথে
শলাপরামর্শ করে নিতো। সিরিজে মূলত এমন এক মায়ামি
শহরকে তুলে ধরা হয়েছে যেখানে নিত্যনৈমিত্তিক
ব্যাপারের মতন যখন একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটে
যাচ্ছিলো, একের পর এক সিরিয়াল কিলারের আগমন
ঘটছিলো। আর মায়ামি মেট্রো পুলিশ ডিপার্টমেন্ট যখন
শহরের অপরাধ প্রবণতা কমাতে, শহরের নাগরিকদের সুরক্ষা
প্রদান করতে ও অপরাধীদের শায়েস্তা করতে হাঁপিয়ে
উঠছিলো, সেই সময়ে ডেক্সটার নামক মায়ামি শহরের এক
সুপারভিলেন রূপী এক সুপারভিলেনের আগমনে মায়ামি
শহরের জনগণ অনেকটা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিলো।কিন্তু
ডেক্সটারের এই রূপ তার কর্মক্ষেত্রে তুমুল ঝড় তুলে ও
সহকর্মীদের রাতের ঘুম হারাম করে দেয়। এছাড়াও এর বিরূপ
প্রতিক্রিয়া পরে ডেক্সটারের পারিবারিক জীবনে ও
ডেক্সটারের আপনজনদের উপর। আর এভাবেই মূলত সিরিজের
গল্প আটটি সিজনে আটটি আলাদা আলাদা মূল খুনের গল্পের
পাশাপাশি ডেক্সটারের ব্যক্তিগত জীবন, তার
আশেপাশের লোকজনদের ব্যক্তিগত জীবন ও তার আরো
ছোটখাটো পাশবিক কর্মকান্ডের কাহিনী বর্ণিত হয়ে
প্রতিটি সিজনকে আলাদা আলাদাভাবে আকর্ষণীয় করে
পর্দায় উপস্থাপন করা হয়েছে।
ডেক্সটারের অভিনেতাশিল্পীদের কথা বলবো? আমার
দেখা সেরা সিরিজ কলাকুশলী দল ছিলো ডেক্সটারের।
প্রতিটি চরিত্রকে আমার বাস্তব মনে হচ্ছিলো।
ডেক্সটারের কথা তো আর নাই বলি, আমি মাইকেল এইচ. হল
কে তা জানি না, কারণ আমি শুধু ডেক্সটার নামক এক দুর্ধর্ষ
সিরিয়াল কিলারকে চিনি, যার জাদুতে আমি বিমোহিত।

Be the first to comment on "রিভিউ (মুভি) : “Dextar”"

Leave a Reply