রিভিউ (মুভি) : ভয়ংকর সুন্দর

প্রথমেই হতাশার কথা গুলো জানান দেয়া প্রয়োজন। পরিচালকের
সিনেমার গল্প বলার সময়ে প্রথমেই পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন
যে তিনি আসলে দর্শকদের কি বুঝাতে চাচ্ছেন। সিনেমাটি দেখার
সময়ে এই বিষয়টি মাথায় কাজ করছিলো যে তিনি আসলে পর্দার এই
দৃশ্য গুলো দ্বারা আমাদের কি বুঝাতে চাচ্ছেন, কি জানান দিতে
চাচ্ছেন? অথবা একটি বার্তা পৌঁছানোর পেছনে এক ঘণ্টার লম্বা
স্টোরিলাইন নামের বিরক্তি উপহার দিচ্ছেন কেনো। বিনোদন
দেয়া ছিল মূল লক্ষ্য? তাহলে বিনোদন কোথায়? কোন গভীর বা
শিক্ষণীয় মেসেজ দিতে চাচ্ছেন? তাহলে আমার কাছে এই বার্তা
পৌঁছচ্ছেনা কেন?
শুধুমাত্র এবং শুধুমাত্র, এই একটি সেক্টরের(গল্প) কারনে সিনেমাটি
সমালোচক ও দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। জালালের
গল্প, আইস্ক্রিম, আয়নাবাজি কিংবা অজ্ঞাতনামার মতো সন্তুষ্টি আশা
করেছিলাম। ইচ্ছে ছিল এই সিনেমাগুলোর মতো প্রশংসা করে
যাবো কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
আবহ সংগীত খুব বাজে ছিল বা বড় ধরনের অসামঞ্জস্য ছিল তা
বলবো না, তবে অনেকটাই টিপিকাল ছিল। তাছাড়া ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক
দিয়ে অনেক দৃশ্যে রহস্য তৈরি করার চেষ্টা করলেও দর্শক
উল্টো হেসেছে। একজন মৌলিক সিনেমার পরিচালক ও প্রশংসনীয়
ট্রেইলার দেখে প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল।
আর ব্যাক্তিগতভাবে গল্পের পরে সবচেয়ে হতাশ হয়েছি (পড়ুন
খারাপ লেগেছে) প্রিয় অভিনেতা পরমব্রত ও অ্যালেন শুভ্রের
অপব্যাবহার দেখে। পরমব্রতের মতো বাঘা অভিনেতাকে সাইডে
বসিয়ে ভাবনাকে লীডে রেখে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার নামে
একটি খোঁড়া গল্প নির্মাণ দেখতে পাওয়া খুবই হতাশাজনক। অথচ এই
পরমব্রতকে লীড রোলে রেখে ভাল কোন
সাইকোলজিক্যাল গল্পে সিনেমা নির্মাণ করলে হয়তো আরেকটি
আয়নাবাজি পাওয়া যেত। ভুলে গেলে চলবেনা এই পরমব্রত অভিনয়
করেছেন “হ্যামলক সোসাইটি”, “কাহানী”, “বাইশে শ্রাবণ”, “প্রলয়”,
“অপুর প্যাঁচালী” এবং “চতুষ্কোণ” এর মতো অসাধারন
সিনেমাগুলোতে। আর পরমব্রতই বা এই সিনেমা সাইন করলেন কি
মনে করে? উনি ভাল জানেন!
আরো কিছু বিষয় নিয়ে হতাশামূলক আলোচনা করা যেত কিন্তু গল্প
রিভিল/প্রকাশ হওয়ার স্বার্থে ও পরিচালকের কষ্টের নির্মানের প্রতি
সম্মান রেখে এড়িয়ে গেলাম। সিনেমার প্রাণ “গল্প” যেখানে হতাশ
করেছে সেখানে অন্যান্য দিক নিয়ে আলোচনা করাটাও অধিক

Be the first to comment on "রিভিউ (মুভি) : ভয়ংকর সুন্দর"

Leave a Reply