রাজার লালসার হাত থেকে বাঁচতে মুখে ট্যাটু !


​রাজাদের মাঝেমাঝেই নতুন রাণির প্রয়োজন হতো। কিন্তু এত রাজকুমারী তো আর পাওয়া সম্ভব ছিল না। তাই, সাম্রাজ্যের পথেঘাটে কোনো সুন্দরীকে পছন্দ হলেই তার স্থান হত রাজার ঘরে। সাধারণ ঘরের মেয়ে রাণি হবে, এ তো খুবই আনন্দের বিষয়। কিন্তু আদতে তা হতো না মায়ানমারের চিন আদিবাসীদের মধ্যে।
রাণি হওয়ার সাধ তাদের অধরাই থেকে যেত। বিয়ে তো দূরস্থান, রাজার মন ভরে গেলে, সমাজও তাদের স্বীকৃতি দিত না। লম্পট রাজার হাত থেকে ঘরের মেয়েদের বাঁচাতে এক অভিনব পন্থা অবলম্বন করে এই আদিবাসীরা।
মেয়েরা যুবতী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মেয়েদের মুখে ট্যাটু করে দেওয়া হতো। যাতে তাদের সৌন্দর্য কোনোভাবেই রাজাকে আকৃষ্ট না করে। নীল, সবুজ বা কালো রঙের লাইন এঁকে বা বুটি দিয়ে ভরিয়ে দেওয়া হতো তাদের অবয়ব।
গাছের রস, ষাঁড়ের পিত্ত ও অ্যানিমেল ফ্যাট দিয়ে প্রস্তুত করা হতো সেই রং। তারপর গাছের কাঁটা দিয়ে বিঁধিয়ে বিঁধিয়ে মুখে নকশা এঁকে দেওয়া হতো। কষ্টকর এই পদ্ধতির পরে বেশ কয়েক সপ্তাহ কেটে যেত সম্পূর্ণ সুস্থ হতে।
পরবর্তীকালে ট্যাটু করার এই প্রথা চিন আদিবাসীদের মধ্যে কেবলমাত্র ‘সংস্কৃতি’র অঙ্গ হিসেবেই রয়ে যায়।
১৯৬০ সালে সরকারের পক্ষ থেকে ট্যাটু করার এই প্রথাকে আইনত নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে বর্তমানে প্রায় অবলুপ্ত হতে চলেছে ঐতিহাসিক এই ট্রাডিশন।

Be the first to comment on "রাজার লালসার হাত থেকে বাঁচতে মুখে ট্যাটু !"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*