রাজস্ব প্রশাসনকে আরো ব্যবসাবান্ধব করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নির্দেশ

রাজস্ব প্রশাসনকে আরো ব্যবসাবান্ধব করতে রাজস্ব কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেছেন, সবাই চেষ্টা করলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ব্যবসার উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দুই সংখ্যায় নামিয়ে সম্ভব হবে। জন্য আইন সহজীকরণ, হয়রানিমুক্ত সেবা প্রদান, জনবান্ধব অফিসে রূপান্তর ও ব্যবসায়ীদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন সূচকে ১৯৮টি রাষ্ট্রের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬তম বলেও তিনি জানান।

রবিবার সকালে রাজধানীর কাকরাইল আইডিইবি ভবনে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প কার্যালয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের নিয়ে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’ বিষয়ক এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান সভাপতিত্বে কর্মশালায় এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রাজস্ব হলো ব্যবসায়ী সহ দেশের সকল জনগণের জন্যে রাষ্ট্রের আমানত। রাষ্ট্রকে রাজস্ব না দিয়ে আমানতের খেয়ানত করলে পরপারে হিসাব দিতে হবে। যাকাত ধর্মীয় বিধান হলেও কর ধর্মীয় বিধান না। তবে ধর্মে বলা হয়েছে, যদি রাষ্ট্র কোনো আইনি দায়িত্ব দেয়া হয় তা পালন করতে হবে। আইনের একটি অংশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রকে সঠিকভাবে কর প্রদান করতে হবে। ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা, জনগণ সবাই আমানতদার। ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্রকে সঠিকভাবে কর না দিলে মনে করতে পারেন ফাঁকি দিলাম। এ ফাঁকি দেয়ার জন্য এপারে না হলেও ওপারে আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে হবে। কর না দিয়ে এনবিআরকে ঠকানো মানে বীরত্ব দেখানো না। তিনি বলেন, কর ফাঁকি দিয়ে আমরা মনে করতে পারি ১৬ কোটি মানুষকে ঠকালাম। আসলে আমরা নিজেরাই ঠকে গেলাম। পাশাপাশি রাজস্ব না দিয়ে মানুষের হক নষ্ট না করার জন্যও আহ্বান জানান তিনি।
এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম নতুন মূসক আইন উদ্যোক্তাবান্ধব, শক্তিশালীকরণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারা দেশের অগ্রগতিতে মূল ভূমিকা পালন করছেন। নতুন মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ বিষয়ে তাদের সম্যক ধারণা থাকা একান্ত অপরিহার্য। এ জন্য তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে আমরা পার্টনারশিপ স্থাপন করেছি। নতুন এ আইন সম্পর্কে আমরা এফবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিদের টিওটি (প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ) প্রদান করে যাচ্ছি। পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রশিক্ষকরা মাঠ পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রত্যেকে একজন দক্ষ প্রশিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন।
তিনি আরো বলেন, নতুন মূসক আইন বাস্তবায়নে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব স্থাপন করা হচ্ছে। ধর্মীয় শিক্ষাগুরুরা হবে এ আইনের জনমত সৃষ্টিকারী প্রধান ব্যক্তি। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মের যারা শিক্ষাগুরু, ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যারা দেখাশুনা করেন তাদের ভ্যাটের পাশাপাশি আয়কর ও শুল্ক বিষয়েও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। উন্নয়নের অক্সিজেন রাজস্ব। এ অক্সিজেন সরবরাহের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নতুন মূসক আইন সম্পর্কে তিনি বলেন, এ আইনের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সব সুপারিশ সুবিবেচনায় এনে জাতীয় স্বার্থে যা যা করা দরকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সবই করবে। অর্থমন্ত্রী শিগগিরই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ বিষয়ে বসবেন। নতুন ভ্যাট আইনের ক্ষেত্রে আমাদের স্লোগান হবে, ‘ভ্যাট আইন হবে পানির মতো স্বচ্ছ ও সহজ’।

Be the first to comment on "রাজস্ব প্রশাসনকে আরো ব্যবসাবান্ধব করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নির্দেশ"

Leave a Reply