মুভি:হাচি,এ ডগস টেল।

জাপানে বসবাস করার কারণে গল্পটি জানা ছিলো। গল্পটি হলো- টোকিও ইউনিভার্সিটির প্রফেসর উয়েনোর পোষা কুকুরের নাম ছিলো হাচি। তিনি কাজে যাবার সময় এবং বাড়ি ফিরে আসার সময় হাচি তার জন্য অপেক্ষা করে থাকতো। কর্মস্থলেই অসুস্থ হয়ে প্রফেসর মৃত্যুবরণ করলেও হাচি টানা নয় বছর স্টেশনে তার জন্য অপেক্ষা করতো। হাচির মৃত্যুর পর টোকিওর শিবুয়া স্টেশনে তার স্মরণে একটি মন্যুমেন্ট বানানো হয় ‘হাচিকো’ নামে, হাচি কুকুরটির নাম আর ‘কো’ অর্থ স্নেহ/ ভালোবাসা। এরকমই একটি গল্প নিয়ে নির্মিত হয়ে ‘হাচিঃ এ ডগ’স টেল’!

বেশ লো এক্সপেকটেশন নিয়ে দেখা শুরু করেছিলাম। কারণ এরকম একটি গল্পকে কতটুকুই বা আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করা যাবে তাই ভেবে ছিলাম। আমার ধারিণা ভুল প্রমাণিত হতে বেশি সময় লাগেনি! গল্পের শুরুতেই হাচিকে আমেরিকার একটি ছোট্ট শহরে নিয়ে আসা হলো। এখানেই স্টেশনে প্রফেসর পার্কারের(রিচার্ড গিয়ার) সাথে হাচির প্রথম দেখা। ঠিক যে মুহুর্ত থেকে পর্দায় রিচার্ড গিয়ারের উপস্থিতি তার পর থেকে এক সেকেন্ডের জন্যেও আর পর্দা থেকে চোখ ফেরানো গেলো না। কি যে মনোমুগ্ধকর উপস্থাপন! মনে মনে বলিলাম, এই জন্যই তিনি রিচার্ড গিয়ার আর এজন্যই ইহা হলিউড। প্রফেসরের জাপানী বন্ধুর মাধ্যমে হাচির গলায় থাকা লকেট থেকে তার নাম বের হলো। প্রফেসর খোজ খবর নিয়ে জানতে পারলেন, এটি জাপানের আকিতা প্রজাতির কুকুর, মানুষের সাথে কুকুরের বন্ধুত্যপূর্ণ সম্পর্কের সূত্রপাত হয় হাচিরই পূর্ব প্রজাতির মাধ্যমে। প্রফেসর পার্কার আগেও কুকুর পুষেছেন। হাচিকেও তিনি ওভাবেই ট্রেইন করতে চাইলেন। জাপানী বন্ধু জানালেন, হাচি অন্যরকম। ও অন্যকে খুশি করার জন্য কিছু করবেনা। পার্কারের সাথে সে ‘স্পেশাল কানেকশন’ খুজে পেয়েছে বলেই তার এতটা অনুরক্ত। বেশ মজা করেই বললেন,” বন্ধু, এরা জাপানীজ, আমেরিকান নয় যে সহজেই বিক্রি হয়ে যাবে!” 

এক সকালে হাচি প্রফেসরের সাথে স্টেশন পর্যন্ত এলো। বিকেল ঠিক পাচটায় আবার হাজির। শীত, গ্রীষ্ম, বৃষ্টি, তুষারপাত কোনকিছুই তাদের এই অদ্ভুত বন্ধুত্তে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারেনি! পার্কারের পরিবারেরই একজন হয়ে ওঠে সে। তারপর একদিন প্রফেসর আর ফিরে আসেন নি। হাচি অপেক্ষা করতেই থাকে, করতেই থাকে। তার স্ত্রী বাড়ি বিক্রি করে অন্যত্র চলে যান। প্রফেসর সাহেবে কন্যা হাচিকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। হাচির তো ওখানে ভালো লাগেনা। সে ফিরে আসে স্টেশনে। স্টেশনের কফি বিক্রেতা, স্টেশন মাস্টার, মাংস বিক্রেতা, রেগুলার যাত্রীগণ সবার পরিচিত হয়ে গিয়েছিলো হাচি। প্রফেসরের প্রতি হাচির ভালোবাসার প্রকাশ দেখে সকলেই আপ্লুত। ধীরে ধীরে হাচির কথা ছড়িয়ে পড়তে থাকে। খবরের কাগজে হাচির ছবি। তার জন্য ফান্ড আসরে থাকে। কিন্তু যার জন্য হাচির প্রতীক্ষা তিনি তো আসেন না! অবশেষে একদিন আসেন তিনি, হাচিকেও নিয়ে যান না ফেরার দেশে। 
সত্য ঘটনাকে একই সাথে বস্তুনিষ্ঠ এবং আনন্দময় করে তোলা যায় তার উদাহরণ এই ছবিটি। রিচার্ড গিয়ার একজন অসাধারণ অভিনেতা। অন্যান্য প্রতিটা চরিত্রই দারুণ। আর হাচির কথা কি ই বা বলবো। কি যে মায়া জাগানিয়া, আদুরে। পরিচালকের কতটুকু ডেডিকেশন থাকলে এ ধরণের অভিনয় বের করে আনা যায় একটি বোবা প্রাণির কাছ থেকে তাই ভাবছিলাম! আমরা যারা কুকুর পুষিনা তারা যারা কুকুর ভালোবাসেন তাদের সাইকোলজি বুঝতে পারবো এই ছবিটা দেখে। একই সাথে ঠোটে হাসি আর চোখের কোণে দুফোটা জল আনতে পারে যে ছবি কালের বিচারে সেটিই তো টিকে থাকবে। দেখে ফেলতে পারেন। ছবির শেষে প্রফেসরের নাতির বলা কথাটুকুর রেশ রয়ে গেলো মনে-“You should never forget who you love.”
লিখেছেন: Kaniz Fatema Tinia

Be the first to comment on "মুভি:হাচি,এ ডগস টেল।"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*