বিশ্ব ক্রিকেটে মোড়লগিরি হারালো ভারত!!!

​ক্রিকেটে ভারতই এখন আর শেষ কথা নয়। যেকোনো ক্ষেত্রে তাদের কথাই শেষ নয় বলে জানিয়ে দিল টেস্টখেলুড়ে বাকি দেশগুলো। বিশ্ব ক্রিকেটের মোড়লগিরি হারিয়ে ফেলল তুমুল ক্ষমতাধর এই দেশটি। গতকাল দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত আইসিসির সভায় দারুণভাবে পর্যুদস্ত হয়েছে দেশটি। দুটি ভোটাভুটির দুটিতেই বিশাল ব্যবধানে হেরেছে ভারত।

ফলে শশাঙ্ক মনোহরই শেষ পর্যন্ত জিততে যাচ্ছেন। তার দৃঢ় অবস্থান ছিল তিন মোড়ল নীতির বিরুদ্ধে। সেই বিতর্কিত প্রস্তাব বাতিল করার দিকে ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটি আরেকধাপ এগিয়ে গেল বুধবার। দুবাইয়ে আইসিসির সভায় স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর ভোটে বাতিল হয়ে গেল ২০১৪ সালে প্রস্তাবিত তিন মোড়ল দেশের জন্য বিতর্কিত লভ্যাংশ নীতি। এর ফলে বর্তমান আইসিসি সভাপতি মনোহরের আর্থিক ‘সম-বণ্টন’ নীতি বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হলো।

সেইসঙ্গে আইসিসির পুনর্গঠিত নতুন সাংবিধানিক গঠনতন্ত্রের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েও ভোটাভুটিতে হেরে গেছে ভারতীয় বোর্ড। এতে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে যে ‘পূর্ণ সদস্য পদ বাতিল’র প্রস্তাব আনা হয়েছিল, সেটিও আর বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

তবে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোট আইসিসির পুনর্গঠিত গঠনতন্ত্র বাস্তবায়নের পক্ষে যথেষ্ট হলেও আগামী জুনের আগে কোনকিছুই আলোর মুখ দেখবে না। জুনে সংস্থাটির বার্ষিক সম্মেলন এ বিষয়গুলো চূড়ান্ত অনুমোদন পাবার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়ন শুরু করতে পারবে আইসিসি।

দুবাইয়ে এদিন আইসিসির সাধারণ সভায় স্থায়ী ১০ সদস্য দেশের বোর্ড প্রতিনিধিদের ভোটের ৯টিই গেছে বিসিসিআই প্রস্তাবিত ‘তিন মোড়ল’র লভ্যাংশ নীতির বিপক্ষে। ভোটাভুটির ৯-১ ফলের পিঠে কেবল ভারতই এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

অন্য প্রস্তাবটিতে ভারতের সঙ্গে ছিল শ্রীলঙ্কার ভোট। কিন্তু গঠনতন্ত্র পুনর্গঠনের সেই ভোটের ফলও গেছে দুই দক্ষিণ এশীয় দেশের বিপক্ষে। ভারতকে তোয়াক্কা না করে গঠনতন্ত্র পুনর্গঠনের প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছে ৮-২ ভোটে।

প্রস্তাবিত মুনাফা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় বিসিসিআই তাৎক্ষণিক কোন প্রতিক্রিয়া না জানালেও এই ফল যে তারা মেনে নেবে না সেটির ইঙ্গিত দিয়েছেন বোর্ডটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, ‘বিসিসিআই উভয় প্রস্তাবে নিজেদের অনড় অবস্থানের পক্ষেই ভোট দিয়েছে। এই নীতি, পরিবর্তন আমাদের কাছে একদমই অগ্রহণযোগ্য। এই মুহূর্তে আমরা শুধু এটুকুই বলতে পারি, সব দরজা এখনই বন্ধ হয়ে যায়নি। এখন আমরা বিশেষ সভায় বসবো। সদস্য দেশদের বোঝানোর চেষ্টা করবো। ’

সম্প্রতি আইসিসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সব দেশকে সমানভাবে টাকা ভাগ করে দেয়া হবে। কিন্তু ভারত বলছে, আইসিসি তাদের দেশকে ব্যবহার করেই বেশি আয় করে। সুতরাং অন্যদের তুলনায় তাদের বেশি অর্থ প্রাপ্য। আইসিসির লভ্যাংশ বণ্টনের বিষয়টি কেমন হবে, সে সম্পর্কে একটি প্রস্তাবও দিয়েছে দেশটি। সেই প্রস্তাব পাস হলে বিশ্বক্রিকেটে ‘তিন মোড়ল’ বলে পরিচিত দেশগুলো বেশি টাকা পেত। যার মধ্যে বিসিসিআইর একাউন্টেই যেত আইসিসির লভ্যাংশের অর্ধেক টাকা। জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ডের মতো ‘গরীব’ বোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতো।

তবে নতুন আর্থিক নীতি বাস্তবায়ন হলে আখেরে লাভ হবে বাংলাদেশসহ অন্যান্য ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর। বাংলাদেশের আয় প্রায় ৩০-৩৫ মিলিয়ন ডলার বেড়ে যাবে নতুন নীতির বাস্তবায়ন হলে। অন্যদিকে সুষম বণ্টনের নীতিতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার মত আয় কমে যাবে ভারতের। তিন মোড়ল নীতিতে আইসিসির মোট আয়ের ২০ ভাগেরও বেশি অর্থ চলে যেত ভারতের পকেটে।

এই ক্ষতি পূরণের লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার আইসিসির সভাপতি শশাঙ্ক মনোহর ভারতকে বাড়তি ১০০ মিলিয়ন ডলার দেয়ার প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করে বিসিসিআই। আর এর পরদিনই বাতিল হয়ে গেল তিন মোড়ল নীতি।

অন্যদিকে, আইসিসির পূর্ণ সদস্য না রাখার প্রস্তাব বাতিল হয়ে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরতে পারে বিসিবি শিবিরেও। শুরু থেকেই এই প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন বাংলাদেশের বোর্ড কর্মকর্তারা।

Be the first to comment on "বিশ্ব ক্রিকেটে মোড়লগিরি হারালো ভারত!!!"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*