বায়ার্নের ‘মিশন ইম্পসিবল’

​ঐতিহাসিক মঞ্চ; এস্তাদিও সান্তিয়াগো বার্নাব্যু। যে মঞ্চে অনেক ইতিহাসের সৃষ্টি হয়েছিল। বিশ্বসেরা মহাতারকারা সবুজ গালিচায় আলো ছড়িয়েছিলেন। সেই ময়দানে আজ ইতিহাস গড়তে পারবে বায়ার্ন মিউনিখ?


মিউনিখে প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ২-১ গোলে হারই বাভারিয়ানদের স্বপ্নের জলাঞ্জলি দেখে ফেলেছেন ফুটবলবোদ্ধারা। তবুও ‘দ্য ইউরোপিয়ান ক্ল্যাসিকো’ বলে কথা। আর ক্লাবটা জার্মানির বলেই কি-না বদলে যেতে পারে চিত্রনাট্য। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেমিফাইনালের টিকিট কাটতে হলে আজ যে অসম্ভবকে সম্ভব করতে হবে কার্লো আনচেলত্তির দলকে। বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১টায় শুরু হতে যাওয়া এ ম্যাচে ১-০ গোলে হারলেও যে রিয়াল মাদ্রিদ চলে যাবে শেষ চারে। আরেক মাদ্রিদের সামনেও যে সেমিফাইনালে ওঠার হাতছানি। লিস্টার সিটির বিপক্ষে না হারলেই সেমি নিশ্চিত হবে অ্যাথলেটিকোর।

ইতিহাস বলছে, জিনেদিন জিদানের দলই যাচ্ছে সেমির মঞ্চে! চ্যাম্পিয়ন্স লীগে প্রতিপক্ষের মাঠে জয়ের পর কখনোই বিদায়ঘণ্টা বাজেনি এগারবারের ইউরোপিয়ান সেরাদের। আর চ্যাম্পিয়ন্স লীগে গত তিনবারই তো স্প্যানিশ প্রতিপক্ষের কাছে হেরেছিল বায়ার্ন। এর মধ্যে রিয়ালই তাদের সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছিল। এবার আরেকটি হতাশার বিদায়ের অপেক্ষায় জার্মান ফুটবলের পাওয়ার হাউসরা। শেষ চারে উঠতে হলে লস ব্লাঙ্কোসদের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিততে হবে বায়ার্নকে। ১-০ গোলে জিতলেও সেটা বৃথা হয়ে যাবে আনচেলত্তির দলের। কিন্তু সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে সর্বশেষ ১২ ম্যাচেই তো অপ্রতিরোধ্য রিয়াল। ১০টিতে জয়ের বিপরীতে বাকি দুই ম্যাচে ড্র করেছিল তারা। আর যে দলটি অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় দুই গোল করেছে, সেই মাদ্রিদকে তাদেরই মাঠে থামানোটা যে কঠিন। তার ওপর যদি দলের প্রাণভোমরা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো থাকেন দুর্দান্ত ফর্মে। বায়ার্নের মাঠেই উয়েফা ক্লাব প্রতিযোগিতায় শততম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন সিআর সেভেন। আজ বার্নাব্যুতে হ্যাটট্রিক করলে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ১০০ গোল করার কীর্তি গড়বেন বর্ষসেরা এ ফুটবলার। তবে রিয়ালের জন্য দুঃসংবাদ হলো, আক্রমণের আরেক তারকা গ্যারেথ বেল যে চোটের কারণে আজ খেলতে পারবেন না। রোনালদোর সঙ্গে আক্রমণ সামলানোর দায়িত্ব করিম বেনজেমার ওপর।

রিয়ালের মাঠে ম্যাচ বলেই হয়তো অনেকে বায়ার্নের বিদায় দেখছেন। কিন্তু যে দলে আছে কার্লো আনচেলত্তির মতো কোচ। যিনি কি-না লস ব্লাঙ্কোসদের জিতিয়েছিলেন লা ডেসিমা। জিদানের যদি থাকেন একজন রোনালদো, আনচেলত্তিরও আছেন রবার্ট লেফানডভস্কি। চোটের কারণে প্রথম লেগে খেলতে পারেননি। এ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪০ ম্যাচে ৩৬ গোল করেছেন পোল্যান্ডের এ তারকা। আজ জার্মানরা তাকিয়ে থাকবে তার দিকেই। রিয়ালকে তাদেরই মাটিতে হারাতে হলে শুরুতেই গোল করতে হবে বায়ার্নকে। দলের আরেক তারকা আরিয়েন রোবেনও তাই মনে করেন, ‘প্রথম সুযোগেই আমাদের অবশ্যই গোল করতে হবে। মিউনিখে যেটা করতে পারেনি, মাদ্রিদে তা করতে হবে।’ শুরুতে গোল করা কতটা কঠিন মাদ্রিদের মাঠে, তা ভালোই জানা আছে ফিলিপ লামের। তবুও ১১ বারের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে মিরাকল ঘটানোর স্বপ্ন বায়ার্ন অধিনায়কের, ‘রিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচটি সহজ হবে না। আমরা আন্ডারডগ হিসেবেই মাঠে নামব। তবে মাদ্রিদের বিপক্ষে জেতার সুযোগও আছে আমাদের।’

ইতিহাস বলছে আজ ফেভারিট রিয়াল মাদ্রিদ। সেই ইতিহাস বদলে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন কার্লো আনচেলত্তি। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আজ কে হাসবেন? সেই উত্তর জানা যাবে রিয়াল-বায়ার্ন ইউরোপিয়ান ক্ল্যাসিকোর পর।

Be the first to comment on "বায়ার্নের ‘মিশন ইম্পসিবল’"

Leave a Reply