বাসা ভাড়া নেওয়ার আগে জেনে নিন এই তথ্য গুলো

জীবিকার তাগিদে মানুষ এখন নগরমুখী। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে থাকার জায়গা। রাজধানীসহ বেশিরভাগ জেলা শহরগুলোতে মানুষ ভাড়াবাড়িতে থাকছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে পোহাতে হচ্ছে নানা ঝামেলা। বলা নেই-কওয়া নেই যখন-তখন বাড়িওয়ালারা বাড়ির ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেন। কয়েক মাস পেরুতে না পেরুতেই ভাড়ায় যোগ হচ্ছে বাড়তি টাকা।

কিন্তু বাড়ির মালিক কি যখন-তখন বাড়ির ভাড়া বাড়িয়ে দিতে পারেন? আর যদি ভাড়া বাড়িয়ে দেন তাহলে ভাড়াটে হিসেবে আপনার কি কোনো আইনি প্রতিকারের সুযোগ আছে?

 

হ্যাঁ, আছে। বাড়িওয়ালা ইচ্ছে করলেই যখন-তখন বাড়ির ভাড়া বাড়িয়ে দিতে পারেন না। আর যদি বাড়িয়ে দেন তাহলে আপনি বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯১ অনুযায়ী প্রতিকার চাইতে পারেন।

ভাড়া বৃদ্ধি
আইনে বলা হয়েছে, প্রতি দুই বছর পর বাড়িওয়ালা বাড়িভাড়া বাড়াতে পারবেন, তবে তাও হতে হবে যুক্তিসংগত। অনেক সময় দেখা যায়, বাড়িওয়ালা ভাড়া বাড়ানোর অজুহাতে আপনাকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন। এ জন্য আপনাকে ভাড়াখেলাপি হিসেবে প্রমাণ করার জন্য আপনার দেওয়া ভাড়া বাড়িওয়ালা গ্রহণ করছেন না। এ ক্ষেত্রে আইনে আপনার প্রতিকারের পথ খোলা আছে। আপনি বাড়িভাড়ার টাকা আদালতে জমা দেওয়ার মাধ্যমে ভাড়াখেলাপির দায় থেকে বাঁচতে পারেন।

এ ছাড়া অবৈধভাবে ভাড়াটেদের গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির লাইন বন্ধ বা জোর করে উচ্ছেদ বা অবৈধভাবে ভাড়া বাড়ানোর ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের ভাড়াটেদের সুরক্ষা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া আছে।

 

কীভাবে আইনের আশ্রয় নেবেন
আইন অনুযায়ী বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং সমস্যা সমাধানের জন্য ভাড়া নিয়ন্ত্রক রয়েছেন। বাড়িওয়ালা কোনো কারণে ভাড়া গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে ভাড়াটেকে চুক্তি অনুযায়ী সময়ের মধ্যে অথবা চুক্তি না থাকলে পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে মানি অর্ডারযোগে বাড়িওয়ালার ঠিকানায় ভাড়া প্রেরণ করতে হবে। মানি অর্ডারযোগে প্রেরিত ভাড়ার টাকাও যদি বাড়িওয়ালা গ্রহণ না করেন, তাহলে ওই টাকা ফেরত আসার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ভাড়াটেকে ভাড়া নিয়ন্ত্রক অর্থাৎ সিনিয়র সহকারী জজের বরাবর দরখাস্ত এবং একই সঙ্গে ভাড়ার টাকাও জমা দিতে হবে। এ জন্য একজন আইনজীবীর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক বরাবর আবেদন করতে হবে। ভাড়া নিয়ন্ত্রক প্রাথমিকভাবে শুনানির পর যদি সন্তুষ্ট হন যে ভাড়া প্রদানের জন্য অনুমতি দেওয়া যাবে, সে ক্ষেত্রে ভাড়ার টাকা আদালতে জমা দেওয়া যাবে এবং তা প্রতি মাসেই আদালতে জমা দেওয়া যাবে। আদালতে ভাড়ার টাকা জমা দিলে আইনত ভাড়াটেকে ভাড়াখেলাপি হিসেবে বলার সুযোগ থাকবে না।

 

যা করণীয়
বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় বাড়িওয়ালার সঙ্গে লিখিত চুক্তি করুন। এই চুক্তিতে কী কী শর্তে ভাড়া দেওয়া হলো এবং করণীয় কী, সেসব নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। ভাড়া কখন বাড়ানো যাবে এবং তা কোন হারে হবে, অগ্রিম কত জমা দিতে হবে, কখন বাড়িওয়ালা ভাড়াটেকে বাড়ি ছাড়তে বলতে পারেন, ভাড়াটে কখন বাড়ি ছাড়বেন, তা অবশ্যই চুক্তিপত্রে উল্লেখ করে দিতে হবে। আর প্রতি মাসে বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ভাড়ার লিখিত রসিদ সংগ্রহ করে রাখতে হবে। ভাড়াটের যেমন অধিকার রয়েছে যুক্তিসংগত উপায়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার, তেমনি বাড়িওয়ালারও অধিকার রয়েছে সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে ভাড়াটে উচ্ছেদের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার।

 

অগ্রিম জামানত গ্রহণ
কোনো ব্যক্তি ভাড়ার অতিরিক্ত প্রিমিয়াম, সালামি বা জামানত ভাড়াটেয়াকে দেওয়ার জন্য বলতে পারবেন না। ১৯৯১-এর ১০ ও ২৩ ধারা মোতাবেক বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রকের লিখিত আদেশ ছাড়া অন্য কোনোভাবেই বাড়ি মালিক তার ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে অগ্রিম বাবদ এক মাসের বাড়ি ভাড়ার অধিক কোনো প্রকার ভাড়া, জামানত, প্রিমিয়াম বা সেলামি গ্রহণ করতে পারবেন না। তা হলে দণ্ডবিধি ২৩ ধারা মোতাবেক তিনি দণ্ডিত হবেন।

 

লিখিত চুক্তি
বাড়িভাড়ার চুক্তি ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে করা যেতে পারে এবং প্রয়োজনে নিবন্ধন করে নেওয়া যেতে পারে। এর ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়ানো সম্ভব। চুক্তিপত্রে ভাড়া, ভাড়া বৃদ্ধি, বাড়ি ছাড়ার নোটিশ সহ বিভিন্ন বিষয় স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে।

 

বাড়ি মেরামত
কোনো কারণে ভাড়াটিয়ার ভাড়া নেওয়া অংশ মেরামত করার প্রয়োজন হলে বাড়িওয়ালাকে তা মেরামতের নির্দেশ দিতে পারেন এবং মেরামতের খরচ বাড়িওয়ালাকেই বহন করতে হবে। জরুরি মেরামতের ক্ষেত্রে নোটিশ পরবর্তী ৭২ ঘন্টার মধ্যে মেরামতের ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভাড়াটিয়া তার নিজ উদ্যোগে মেরামত করতে পারবেন এবং যাবতীয় খরচ ভাড়া থেকে কেটে রাখতে পারবেন।

Be the first to comment on "বাসা ভাড়া নেওয়ার আগে জেনে নিন এই তথ্য গুলো"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*