বার্সালোনার জয়।

একের পর এক হোঁচটে কোণঠাসা হয়ে পড়া দলকে পথে ফেরাতে হ্যাটট্রিক করলেন আর্দা তুরান। আক্রমণভাগের দুই সতীর্থের অনুপস্থিতিতে জ্বলে উঠলেন লিওনেল মেসি। তাদের নৈপুণ্যে স্পেনের অন্যতম সফল দল বার্সেলোনাও অবশেষে পেল জয়ের দেখা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখের বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছে লুইস এনরিকের দল।
মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠ কাম্প নউয়ে ৪-০ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। শুরুতে মেসির গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল করেন তুরান। প্রথম পর্বে জার্মান ক্লাবটির মাঠে ২-১ গোলে জিতেছিল লা লিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
এর আগে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ তিন ম্যাচ জয়শূন্য ছিল বার্সেলোনা, শেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই ড্র। সবশেষ শনিবার লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে বসে গত মৌসুমের ‘ডাবল’ জয়ীরা। মাঝে কোপা দেল রেতে তৃতীয় সারির দল এরকুলেসের বিপক্ষে হোঁচট খায় কাতালান ক্লাবটি।
সব মিলিয়েই সময়টা ভালো যাচ্ছিল না বার্সেলোনার। অবশ্য ইউরোপ সেরার মঞ্চে আগেই গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত হয়েছে তাদের। কিন্তু দলে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে একটা জয় বড্ড দরকার ছিল। সংবাদ সম্মেলনে এনরিকের কণ্ঠেও তা প্রতিফলিত হয়। অবশেষে কক্ষপথে ফিরল স্পেনের অন্যতম সফল দলটি।
চোট পেয়ে মাঠের বাইরে নেইমার। অবশ্য সুস্থ থাকলেও হলুদ কার্ডের নিষেধাজ্ঞায় খেলতে পারতেন না তিনি। আক্রমণভাগের আরেক তারকা লুইস সুয়ারেস, গোলরক্ষক মার্ক আন্ড্রে টের স্টেগান, ডিফেন্ডার জেরার্দ পিকেসহ নিয়মিত একাদশের কয়েকজনকে বিশ্রাম দেন কোচ।
তবে পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার মেসি ম্যাচের শুরুতেই দলকে এগিয়ে দেন। ষষ্ঠদশ মিনিটে বাঁ-দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে তুরানের কাটব্যাক ধরে কোনাকুনি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। এবারের আসরে এটা তার দশম গোল।
দুই মিনিট পর আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার বাড়ানো বল প্রথম ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো শট নিয়েছিলেন মেসি। বল এক জনের পায়ে লেগে কিছুটা দিক পাল্টে জালে ঢুকতে যাচ্ছিল, ক্ষিপ্রতার সঙ্গে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে দলকে সে যাত্রায় বাঁচান গোলরক্ষক। বিরতির একটু আগে মেসির আরেকটি প্রচেষ্টা কর্নারে শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তিন মিনিটের ব্যবধানে তুরান দুবার বল জালে পাঠালে ম্যাচ বার্সেলোনার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ৫০তম মিনিটে দেনিস সুয়ারেসের ক্রসে হেডে লক্ষ্যভেদের পর আলেইস ভিদালের বাড়ানো বলে নীচু শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এই তুর্কি মিডফিল্ডার।
৬৭তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন তুরান। ডান দিক থেকে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড পাকো আলকাসেরের নীচু করে বাড়ানো বল ফাঁকায় পেয়ে কোনাকুনি শট নেন তিনি। বল গোলরক্ষকের গায়ে লেগে ভিতরে ঢুকে যায়।
এই জয়ের পর ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে জেতা বার্সেলোনার পয়েন্ট হলো ১৫।
‘সি’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে স্কটল্যান্ডের ক্লাব সেল্টিকের সঙ্গে ঘরের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে যাওয়া পেপ গুয়ার্দিওলার দলের পয়েন্ট ৯।
পেরেসের হ্যাটট্রিকে গ্রুপসেরা আর্সেনাল
স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড লুকাস পেরেসের হ্যাটট্রিকে সুইজারল্যান্ডের ক্লাব বাসেলকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে আর্সেনাল। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটির পয়েন্ট ১৪।
এই গ্রপের অন্য ম্যাচে বুলগেরিয়ার ক্লাব লুদোগোরেতসের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে পিএসজি। আর্সেনালের সঙ্গে আগেই দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা ফরাসি ক্লাবটির পয়েন্ট ১২।
৩ পয়েন্ট নিয়ে ইউরোপা লিগের টিকেট পেয়েছে লুদোগোরেতস।
বায়ার্নের প্রতিশোধ
ফিরতি লেগে রবের্ত লেভানদোভস্কির একমাত্র গোলে আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। প্রথম পর্বে স্পেনের ক্লাবটির মাঠে ১-০ ব্যবধানে হেরেছিল জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।
ছয় ম্যাচের প্রথম পাঁচটিতে জেতা আতলেতিকোর পয়েন্ট ১৫। ১২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে বায়ার্ন।
৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে ইউরোপা লিগের টিকেট পেয়েছে রোস্তোভ।
এদিকে, বেনফিকাকে ২-১ গোলে হারিয়ে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে নাপোলি। ইতালির ক্লাবটির পয়েন্ট ১১।
নকআউট পর্বে উঠেছে পর্তুগালের ক্লাব বেনফিকাও, তাদের পয়েন্ট ৮।
এই গ্রুপের অন্য ম্যাচে দিনামো কিয়েভ ৬-০ গোলে বেসিকতাসকে। অবশ্য তারপরও ৭ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা তুরস্কের দলটিই খেলবে ইউরোপা লিগে।messi1

Be the first to comment on "বার্সালোনার জয়।"

Leave a Reply