বাদের রহস্য কী? আজিনামোটো

সাদা রঙের লবণ বা চিনির মতো আপাত নিরীহ একটি পদার্থ। চাইনিজ খাবারে স্বাদ আনতে এর জুড়ি মেলা ভার। সমস্ত ফাস্টফুডে এটি মাস্ট। কম দাম। বাজারে মেলে দেদার। তাই জিভে পানি আনা খাবারে ঢালাও ব্যবহার। রাস্তার ধারে চাইনিজ বা ফাস্টফুডের দোকানে ওই প্যাকেট থাকবেই। প্যাকেটজাত বা বোতলভর্তি রকমারি সস। টমেটো থেকে শুরু করে চিলি সস, সোয়া সস, সবেতেই থাকে এটি। ইনস্ট্যান্ট সুপ মিক্স, ভেজি ডিপ, সবেতেই এর অবাধ বিচরণ।

১৯০৯ সালে আজিনামোটো নামে একটি জাপানি কোম্পানি প্রথম খাদ্যে এর ব্যবহারিক প্রয়োগ শুরু করে। সেই থেকেই মনোসোডিয়াম গ্লুটামেটের নাম আজিনামোটো। খাবারে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে এর জুড়ি নেই।

চটজলদি পেট ভরাতে চাউমিন পছন্দ সাত থেকে সত্তরের। প্লেটে ধোঁয়া ওঠা চাউমিন। সাথে যদি থাকে একটু চিলি চিকেন, তাহলে তো কথাই নেই। ওই স্বাদের রহস্য কী? আজিনামোটো।

চাউমিনের মতোই আরো একটি খাবারে লোভ ষোলোআনা। মোমো। ভেজ হোক বা চিকেন, মোমোয় পছন্দ অনেকেরই। আসলে আজিনামোটোর কারণেই। মিক্সড ফ্রায়েড রাইস এবং চিলি চিকেন। রেস্তোরাঁয় বসে চোখ বুজে অর্ডার। খাবার আসার অধীর অপেক্ষা। জিভে পানি। আজিনামোটোর অপার টান।

রাস্তা থেকে রেস্তোরাঁ, জিভে জল আনা ফাস্টফুড মানেই আজিনামোটো। আর আজিনামোটো মানেই বিষ। এর ফলে বাড়ছে ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক ও ক্যান্সারের আশঙ্কা।

নিউট্রিশন ও মেটাবলিজমের জার্নালে প্রকাশিত রিপোর্টে উঠে এসেছে সতর্কবার্তা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, শিশু এবং অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের শরীরে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে আজিনামোটো। আজিনামোটোর প্রভাব সরাসরি পড়ে হার্টে। বাড়ে হৃদরোগের আশঙ্কা। বুকে ব্যথা শুরু হয়। হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে। আজিনামোটোর প্রভাব পড়ে অন্তঃসত্ত্বা মহিলার শরীরে। এই সময় শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম গেলে ব্লাড প্রেশার বেড়ে যায়। তার প্রভাব পড়ে গর্ভজাত শিশুর ওপর।

Be the first to comment on "বাদের রহস্য কী? আজিনামোটো"

Leave a Reply