বাংলাদেশের বোলারদের জন্য দুঃখিত

ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানরা রান পাচ্ছেন। বোলাররা উইকেট। ক্রিকেট হচ্ছে ক্রিকেটের মতো। আর সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকায় মুশফিকুর রহিমের পর মাশরাফি মুর্তজাও বোলারদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। একেবারে নখদন্তহীন বোলিং। নির্জীব, নির্বিষ। এতটাই অকার্যকর যে, প্রথম ওডিআই শেষে প্রোটিয়া অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি স্বীকার করেছেন, ‘বাংলাদেশের বোলারদের জন্য খারাপ লাগছে।’ এটি ডু প্লেসির সহানুভূতি, না খোঁচা কে জানে। তবে রোববার কিম্বার্লির ডায়মন্ড ওভালে ডি কক ও হাশিম আমলা যেভাবে বেধড়ক তাসকিনদের পিটিয়ে ২৮২ রান তুলেও অবিচ্ছিন্ন থেকেছেন, তাতে মাশরাফিদের অসহায়ত্বই ফুটে উঠেছে। ইনজুরি এই ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় মোস্তাফিজুর রহমানকে। সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচেও তার খেলার ওপর প্রশ্নচিহ্ন ঝুলছে। সব মিলিয়ে বোলিং ত্রাহি অবস্থা। টেস্ট সিরিজ থেকে চলে আসছে এই ধারা। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে তিন ইনিংসে বাংলাদেশের বোলাররা ১,৩১৬ রান দিয়েছেন। উইকেট নিয়েছেন মাত্র ১৩টি। প্রথম ওডিআইতে ‘দ্য ফিজ’ মোস্তাফিজের অভাব অনুভূত হয়েছে প্রবলভাবে। তাসকিন আট ওভারে দিয়েছেন ৬১ রান। সাকিব ৪৮। পাঁচ ওভারে ৪৬ রান দিয়েছেন সাইফউদ্দিন। অবস্থা এমন হয়েছিল যে, ‘ছেড়ে দে মা কাঁদি বাঁচি।’ ম্যাচ-উত্তর কথোপকথনে অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা তার বোলারদের কাছ থেকে ধারালো পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা করেন। সোজা বাংলায়, উইকেট চান তিনি। তাই বাংলাদেশের বোলারদের ডু প্লেসি যখন ‘সরি’ বলেন, তার উচ্চারিত এই একটি শব্দ গায়ে হুল হয়ে ফোটে। ডু প্লেসি সিরিজের শেষ দুটি ওডিআইতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর আভাস দিয়েছেন। এমন নিষ্কণ্টক, নির্বিঘ্ন উইলোবাজির পরও ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার তৃতীয় প্রাচীন শহর পার্লে আগামীকাল সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে। কেপটাউন থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে এই শহরে মাশরাফিদের জন্য ঘুরে দাঁড়ানো যেন ৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়ার সমান

Be the first to comment on "বাংলাদেশের বোলারদের জন্য দুঃখিত"

Leave a Reply