বঙ্গবন্ধুকে হত্যা  বাঙালি জাতির অগ্রগতিকে থামিয়ে দেওয়ার কুচক্রান্ত

জবি প্রতিনিধি:

“বঙ্গবন্ধুকে হত্যা বাঙালি জাতির ইতিহাসের কালো অধ্যায়।জাতির অগ্রগতিকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য এ কুচক্রান্ত করে হয়েছিল। আর এ হত্যাকাণ্ডের পর কথিত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনগণের সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করেন বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।”

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সভার শুরুতে ১৫ আগস্ট নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, “বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিলো বাঙালি জাতির অগ্রগতিকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য। তাকে হত্যার পর দেশের উন্নয়ন ক্রমাগত ব্যাহত হতে থাকে। আর আজ যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, এখনো এক শ্রেণীর ষড়যন্ত্রকারী ঐক্যবদ্ধভাবে নেমেছে দেশের উন্নয়নকে ব্যাহত করতে। আর এ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে ছাত্রলীগের প্রত্যেকটি কর্মীকে সজাগ থাকতে হবে।”

ছাত্রলীগকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “ছাত্রলীগকে হতে হবে দেশের প্রতিটি জনগণের আদর্শ। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিতে ছাত্রলীগকে অগ্রণী ভুমিকা পালন করতে হবে।”

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, “প্রতিটি অভ্যুত্থানের পেছনে ক্ষমতার পরিবর্তন লুকিয়ে থাকে। ১৫ আগস্ট কোনো সাধারণ অভ্যুত্থান ছিল না, এটা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বদলের অভ্যুত্থান ছিল। ৬০-৭০ দশকে পৃথিবীর অনেক দেশেই বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকাতে বছরে ২-৩ বার সামরিক অভ্যুত্থান হত। সেখানে সেনানায়ক থেকে সেনানায়কের ক্ষমতার পরিবর্তন হতো। ৭৫’-এ বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর পরিবারকে নির্মম হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতার বদল হয়। কিন্তু ৭৫’-এর হত্যাকাণ্ডে শুধুমাত্র ক্ষমতাই বদল হয়নি, এটা ছিল রাষ্ট্র বদল করার অভ্যুত্থান।”

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বাঙালিদের হৃদয় থেকে কখনো মুছতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু আজও সব বাঙালির হৃদয়ে বিরাজমান। ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে এদেশের উন্নয়নকে থামিয়ে দিয়েছিলো। কিন্তু তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।”

অনুষ্ঠানে জবি ছাত্রলীগ সভাপতি তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু।

এছাড়াও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা  উপস্থিত ছিলেন।

Be the first to comment on "বঙ্গবন্ধুকে হত্যা  বাঙালি জাতির অগ্রগতিকে থামিয়ে দেওয়ার কুচক্রান্ত"

Leave a Reply