ফাইনালে ঢাকা ডায়নামাইটস এর মুখোমুখি রাজশাহী কিংস।

গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডের অর্ধেকেরও বেশি খালি। গ্যালারির বাকি অংশের কোথাও জমাট দর্শক নেই। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থেকেও দর্শকেরা ভরতে পারেননি গ্যালারির অর্ধেকও। শেষ দৃশ্যে এসে কি তাহলে আকর্ষণ হারিয়ে ফেলছে বিপিএল!
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কাল খুলনা টাইটানসের ব্যাটিংও যেন তাই বলল। রাজশাহী কিংসের সামনে তারা দিতে পারল মাত্র ১২৬ রানের লক্ষ্য। দুই দলের আগের দুটি ম্যাচই ছিল দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। একটি তো ফল দেখে শেষ ওভারে গিয়ে! ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাতে আরও বেশি উত্তেজনাই ভর করার কথা। অথচ সেই খুলনা-রাজশাহীর ম্যাচই কিনা কোয়ালিফায়ার পর্যায়ে এসে হয়ে পড়ল প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন! ম্যাচটা শেষ ওভারে গেলেও ৭ উইকেটের জয় তুলে নিতে কোনো বেগই পেতে হয়নি রাজশাহীকে।
তবে জয়ের লক্ষ্যের দিকে তাদের গতিটা ছিল অনেক শ্লথ। ১২৬ রানের লক্ষ্য ছুঁতে খেলতে হয়েছে শেষ ওভার পর্যন্ত। ‘শেষ ওভার’ কথাটা পড়ে মনে হতে পারে দুই দলের কালকের ম্যাচও বুঝি শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চকরই হয়েছে। আসলে তা নয়। শেষ ওভারে বল হাতে নিয়ে এবার আর চমক দেখাতে পারেননি খুলনা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ছয় বলে ৪ রান দরকার ছিল রাজশাহীর। প্রথম বলে সাব্বির রহমান ১ রান নেওয়ার পর দ্বিতীয় বলেই লং অন দিয়ে বিশাল এক ছয় মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন জেমস ফ্র্যাঙ্কলিন।
৬৭ রানে তৃতীয় উইকেট পড়ার পর মনে হচ্ছিল রাজশাহী বুঝি চাপেই পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু সাব্বির- ফ্র্যাঙ্কলিন সেটা হতে দিলেন না। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৬২ রানের জুটিতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রাজশাহী। লক্ষ্য কম থাকাতেই সুবিধা হয়েছে সাব্বির-ফ্রাঙ্কলিনের। জয়ের জন্য একদমই তাড়াহুড়া ছিল না। সাব্বিরের ইনিংসই তার প্রমাণ। টি-টোয়েন্টিতে যিনি বোলারদের ওপর নির্দয় হয়ে উঠতে পছন্দ করেন, সেই সাব্বিরের অপরাজিত ৪৩ রান এসেছে ৫২ বলে। মাত্র দুটি বাউন্ডারি মেরেছেন এবং প্রথমটি নিজের ৩২তম বলে। খুলনার বাঁহাতি স্পিনার মোশাররফ হোসেনকে লং অন দিয়ে একমাত্র ছক্কাটি মেরেছেন সাব্বির। ফ্র্যাঙ্কলিন তুলনামূলকভাবে আক্রমণাত্মক থাকলেও সাব্বিরের মতো গোছানো ছিল তাঁর ২৪ বলে অপরাজিত ৩০ রানের ইনিংসটিও।
খুলনা টাইটানসের অবশ্য শুরুতেই এলোমেলো হয়ে পড়ে সবকিছু। প্রথম বলেই বাউন্ডারি দিয়ে যে ইনিংসের শুরু, সেটা তৃতীয় ওভারে এসেই দিক হারায়। মাত্র এক বলের ব্যবধানে দুই ওপেনার হাসানুজ্জামান ও আবদুল মজিদের রানআউটের ধাক্কা তারা সামলে উঠতে পারেনি শেষ পর্যন্ত। সাত নম্বরে নামা আরিফুল হকের ২৯ বলে অপরাজিত ৩২ রানের ইনিংসটি না হলে দলের স্কোর ১২৫-ও হতো কি না সন্দেহ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
খুলনা টাইটানস: ২০ ওভারে ১২৫/৯ (মজিদ ১১, হাসানুজ্জামান ১, পুরান ২২, শুভাগত ৪, মাহমুদউল্লাহ ২২, হাওয়েল ১২, আরিফুল ৩২*, কুপার ৪, নাঈম ০, মোশাররফ ৪, জুনায়েদ ১*; উইলিয়ামস ১/১৮, নাজমুল ০/২০, ফরহাদ ১/২৮, মিরাজ ০/১৪, আফিফ ১/৯, প্যাটেল ৩/১৯, স্যামি ১/৮)।
রাজশাহী কিংস : ১৯.২ ওভারে ১২৯/৩ (মুমিনুল ২, নুরুল ১৪, আফিফ ২৬, সাব্বির ৪৩*, ফ্র্যাঙ্কলিন ৩০*; জুনাইদ ০/২৫, কুপার ১/৩২, মোশাররফ ১/২৬, হাওয়েল ০/১৬, নাইম ০/১৬, মাহমুদউল্লাহ ১/১০)
ফল: রাজশাহী কিংস ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : সামিত প্যাটেল।a27fb8e013de1d2a41a33d161b996bf3-untitled-1

Be the first to comment on "ফাইনালে ঢাকা ডায়নামাইটস এর মুখোমুখি রাজশাহী কিংস।"

Leave a Reply