পরীক্ষায় ভাল করার অন্যতম শর্ত

আপনি যদি পরীক্ষার জন্য ঘুমের সাথে আপোষ করে থাকেন তাহলে আপনার এ অভ্যাস খুব দ্রুত পরিবর্তন করা উচিৎ। কারণ সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে বিশেষ করে পরীক্ষার মৌসুমে ‘ঘুম’, স্মৃতিশক্তি দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে।

ব্রাজিলের, রিও গ্র্যান্ডে ফেডারেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারা এক গবেষণায় বেড়িয়ে এসেছে ঘুম স্মৃতিকে শক্তিশালীকরণ বা দীর্ঘমেয়াদী করতে সাহায্য করে। তাই গবেষকরা পরীক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানোর জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, ঘুম মস্তিষ্কের দুর্বলতা দূর করে তাকে পরিমার্জন, জোরাল করে।

পরীক্ষার আগে অনেক কিছু শেখা প্রয়োজন। সে জন্য ঘুম বাদ দিয়ে পড়তে বসলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। কারণ, ঘুমের ঘাটতি হলে পরীক্ষার খাতায় লেখার সময় বিভিন্ন তথ্য একসঙ্গে গোছানো কঠিন হয়ে পড়ে। যুক্তরাজ্যের রয়েল হলোওয়ে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের একদল মনোবিজ্ঞানী এ কথা জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, পড়াশোনা ও অন্যান্য বিষয় শেখার ক্ষেত্রে রাতে ভালো ঘুম হওয়া জরুরি। এতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ এবং মনে রাখার ক্ষেত্রে সফল হয়। তাই পরীক্ষার আগে ঠিকমতো না ঘুমিয়ে সব পড়া আরেক নজর দেখে নেওয়ার ধারণাটা সব সময় কার্যকর না-ও হতে পারে।

পরীক্ষার আগে ও চলাকালে নিয়ম করে ৬ ঘন্টা ঘুমাবেন। মনে রাখবেন পর্যাপ্ত ঘুম আপনার পড়াকে মেমোরাইজড করতে সাহায্য করে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিজেকে টেনশন মুক্ত করে প্রশান্ত মনে ঘুমাতে যাবেন। দু-এক দিন ঘুম কম হলেও এত উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পড়াশোনা শেষ করে ঘুমাতে যাওয়া উচিত। কেননা, রাতে ঘুম ভালো হলে মাথা ফ্রেশ থাকে। আর ভালো লেখার জন্য অবশ্যই ফ্রেশ থাকা জরুরি।

কেউ যদি চায় পরীক্ষার আগের রাতে পড়বে, তাহলে সর্বোচ্চ ১০ থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রাত জাগতে পারে। প্রয়োজনবোধে বেশি রাত না জেগে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ে পরের দিন ভোরবেলা থেকে পড়া শুরু করা যেতে পারে। এটাই বরং ভালো। কেননা, আগের রাতে ভালো ঘুম পরবর্তী পরীক্ষায় ভালো করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Be the first to comment on "পরীক্ষায় ভাল করার অন্যতম শর্ত"

Leave a Reply