পরাজয়ের পরেও সেমিফাইনালে বাংলাদেশের যুবারা।

​রুদ্ধশ্বাস ম্যাচটির শেষ হলো ১ উইকেটের হার দিয়ে। কিন্তু ম্যাচ জিতেও বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পথের কাঁটা হতে পারেনি পাকিস্তানের যুবারা। নেট রান রেটে এগিয়ে সাইফ হাসানের দল ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েই উঠেছে যুব এশিয়া কাপ ক্রিকেটের সেমিফাইনালে।

আফগানিস্তান ও সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে শেষ চারের সম্ভাবনা ভালোই ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ যুব দল। কিন্তু কাল পাকিস্তানের জয়ের পর বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান তিন দলেরই পয়েন্ট সমান ৯ হয়ে যায়। নেট রান রেট সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশের। এরপরই আফগানিস্তান। সমান পয়েন্ট পেয়েও তাই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

২১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ শ্রীলঙ্কার যুবাদের মুখোমুখি হবেন বাংলাদেশের যুবারা। তার আগে কাল প্রথম সেমিফাইনাল খেলবে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ভারত ও ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ আফগানিস্তান। ২৩ ডিসেম্বরের ফাইনালসহ টুর্নামেন্টের বাকি সব ম্যাচই দিবারাত্রির, হবে কলম্বোর রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার ও জুনিয়র নির্বাচক এহসানুল হক আশাবাদী, ‘গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আমাদের ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা হলেও উজ্জ্বল। গ্রুপ পর্বে ভারতের কাছে শ্রীলঙ্কা হেরেছে। সেমিফাইনালে ভারতের চেয়ে দুর্বল দলই পাচ্ছি।’ তবে কালকের ম্যাচটা জিততে জিততে হেরে যাওয়ায় হতাশ সাবেক এই ক্রিকেটার, ‘স্পিনারদের ওভার শেষ হয়ে যাওয়াতেই সমস্যা হয়েছে। পেসাররা শুরুর দিকে আরেকটু ভালো বল করলে স্পিনারদের ওভারগুলো কম খরচ হতো।’

অধিনায়ক সাইফ হোসেন ও বাঁহাতি পেসার কাজী অনিক ছাড়া বাংলাদেশ দলের বাকি ৯ ক্রিকেটারেরই যুব ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছে কালকের ম্যাচে। এর মধ্যে আছেন বিপিএলে বল হাতে আলো ছড়ানো আফিফ হোসেনও। তবে আফিফের আসল পরিচয়, তিনি ভালো ব্যাটসম্যান। তিন নম্বরে নেমে কাল সে পরিচয়টাই দিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ৪৯.৫ ওভারে বাংলাদেশের করা ২৩০ রানে আফিফের ৯৪ বলে ৮০ রানের অবদান সবচেয়ে বেশি। আট বাউন্ডারি ও দুই ছক্কার ইনিংসটি খেলার পথে পঞ্চম উইকেটে ৭৭ রানের জুটি গড়েছেন মোহাম্মদ রাকিবের (৪২) সঙ্গে। ১৭৭ রানে আফিফের বিদায়ের পরই বিপর্যয় নামে বাংলাদেশ যুব দলের ইনিংসে। মাত্র ৫৩ রানে পড়ে শেষ ৬ উইকেট।

অলরাউন্ডার আফিফ বল হাতেও ৩৭ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। রানআউট করেছেন পাকিস্তানের ওপেনার জাইদ আলমকে। শুরুতে পাকিস্তানের যুবারা সহজেই ম্যাচ জিতবে বলে মনে হলেও শেষ ১০ ওভারে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে বাংলাদেশ। ৪ উইকেটে ২০১ থেকে মাত্র ১৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে শঙ্কায় পড়ে যায় পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯। ৪৩তম ওভারে হওয়া দুটি রানআউটে মাত্র পাঁচ ওভারেই বদলে যায় ম্যাচের চেহারা। সেখান থেকে পাকিস্তানকে জয়ের মুখ দেখানোর কৃতিত্ব আট নম্বরে নামা সাদ খানের। পরিস্থিতির দাবি মেটানো ব্যাটিংয়ে ২৯ বলে করেছেন অপরাজিত ১৮ রান। শেষ ব্যাটসম্যান মুহাম্মদ হোসেনকে সঙ্গী করে পাঁচ বল বাকি থাকতেই জয় এনে দিয়েছেন দলকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯: ৪৯ .৫ ওভারে ২৩০ (আফিফ 


৮০, রাকিব ৪২, সাইফ ৩২; নাসির ২/১১, উমর ২/৩২)।

পাকিস্তান অনূর্ধ্ব -১৯: ৪৯.১ ওভারে ২৩৩/৯ (জাইদ ৫০, নাসির ৪৫, জারাব ৩৩, শফিক ৩০, মহসিন ২৯; আফিফ ২/৩৭, সাখাওয়াত ২/৪৩, সাইফ ১/৪৬)।

ফল: পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল ১ উইকেটে জয়ী। 

Be the first to comment on "পরাজয়ের পরেও সেমিফাইনালে বাংলাদেশের যুবারা।"

Leave a Reply