পনেরো বছর পর আজ রাতে ‘ম্যানচেস্টার ডার্বি’

​সর্বশেষ ‘বৃহস্পতিবার’ ম্যানচেস্টার ডার্বি হয়েছিল ১৯৯৪ সালের ১০ নভেম্বর। এর পর একই শহরে দুই ক্লাবের যুদ্ধটা আর কখনোই বৃহস্পতিবার রাতে হয়নি। ২৩ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লড়াই, যা ‘ম্যানচেস্টার ডার্বি’ নামে খ্যাত। ১৯৯৪ সালে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ওই রাতে লাল উৎসবে স্লান হয়ে গিয়েছিল ম্যানসিটি। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের দলের কাছে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল সিটিজেনরা। আজ কি ফিরে আসবে ২৩ বছর আগের স্মৃতি? ভেন্যুটা আজ ওল্ড ট্র্যাফোর্ড নয়, ইত্তিহাদ। ডাগআউটে থাকবেন পুরনো দুই শত্রু ম্যানসিটির পেপ গার্দিওলা ও ম্যানইউর হোসে মরিনহো। প্রিমিয়ার লীগের আজকের ম্যাচটি দু’দলের জন্য সেরা চারে থাকার লড়াই।

২০০২ সালের নভেম্বরের পর ডার্বিতে সিটি ১৩ ও ইউনাইটেড জিতেছে ১৬ ম্যাচে। বাকি পাঁচ ম্যাচ হয়েছে অমীমাংসিত। সাম্প্রতিক সময়ের পারফরম্যান্সের বিবেচনায় আজকের ম্যাচে ফেভারিট ইউনাইটেড। কারণ, সিটির বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে লীগ লিডার চেলসিকে হারিয়েছে মরিনহোর দল। বিপরীতে গার্দিওলার সিটিজেনরা আছে ছন্দহীন। ক’দিন আগে এফএ কাপের সেমিফাইনালে ওয়েম্বলিতে আর্সেনালের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে ম্যানসিটি। তখনই নিশ্চিত হওয়া যায়, এবার কোনো শিরোপাই ধরার সুযোগ পাচ্ছেন না গার্দিওলা। ম্যানইউর সামনে আছে ইউরোপা লীগ জয়ের সুযোগ। সে আসরে চ্যাম্পিয়ন হলে আগামী মৌসুমে সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লীগে খেলার টিকিট কাটবে তারা। কিন্তু হারলে তাকিয়ে থাকতে হবে প্রিমিয়ার লীগের দিকে। ইংলিশ লীগে সেরা চারে না থাকলে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে সরাসরি খেলা হবে না দু’দলেরই। তাই আজকের ম্যাচটি এক শহরের দুই ক্লাবের জন্য শীর্ষ চারে থাকার লড়াই। চারে থাকা সিটির ৩২ ম্যাচে পয়েন্ট ৬৪, সমান ম্যাচে ম্যানইউ ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে আছে পাঁচ নম্বরে।

অর্থাৎ আজকের ম্যাচের জয়-পরাজয়ের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে দু’দলের চ্যাম্পিয়ন্স লীগে খেলার ভাগ্য। প্রিমিয়ার লীগের এবারের মৌসুমে প্রথম ডার্বিতে জিতেছিল গার্দিওলার দল। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে মরিনহোর ইউনাইটেডকে হারিয়েছিল সিটি। সে পরিসংখ্যানে যদি আজকের ম্যাচে এগিয়ে থাকে আকাশি-নীল জার্সিধারীরা, ইত্তিহাদের সর্বশেষ লড়াইয়ের ফলাফলে এগিয়ে দ্য রেড ডেভিলসরা। গত বছরের ২০ মার্চ ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের সর্বশেষ ডার্বিতে লুই ফন গালের ম্যানইউর কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির সিটি। তবে আজকের মঞ্চটা যে ভিন্ন। সবুজগালিচায় ২২ ফুটবলযোদ্ধার লড়াইয়ের সঙ্গে ডাগআউটে দৃষ্টি থাকবে ফুটবল দুনিয়ার।

মরিনহো ও গার্দিওলার দ্বৈরথটা তো পুরনো। সেই দ্বৈরথ শুরু হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনা এল ক্ল্যাসিকো থেকে। ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রিয়ালের কোচ ছিলেন মরিনহো। সে সময় বার্সেলোনার কোচ ছিলেন গার্দিওলা। ইংল্যান্ডে আসার পর আবারও দুই কোচের লড়াইয়ে থাকে বাড়তি আকর্ষণ। তবে ম্যানচেস্টার ডার্বিটা গার্দিওলা ও তার নিজের নয় বলে জানিয়েছেন মরিনহো, ‘আমি বর্তমানের দিকেই তাকিয়ে। অতীতে কী হয়েছে, সেটা নিয়ে ভাবছি না। ম্যানচেস্টার ডার্বিটা দুই ক্লাবের। মৌসুম শেষে কে কোথায় থাকবে, এ লড়াই সেই গুরুত্ব বহন করে। তাই ম্যানচেস্টার ডার্বি আমার ও গার্দিওলার নয়।’ পেপ গার্দিওলার সঙ্গে সব মিলিয়ে ১৮ বারের লড়াইয়ে মাত্র চারটিতে জিতেছেন মরিনহো। আটটিতে হার ও ছয়টিতে ড্র করেন তিনি।

ইত্তিহাদে আজ জিতলে সেরা চারে থাকার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে মরিনহোর দলের। আর হারলে আরও পিছিয়ে পড়বে। কেবল প্রতিশোধই নয়, সেরা চারে থাকার লড়াইটা নিয়েই বেশি ভাবনা ম্যানইউ শিবিরে।

Be the first to comment on "পনেরো বছর পর আজ রাতে ‘ম্যানচেস্টার ডার্বি’"

Leave a Reply