দেখে নিন রোজা ভঙ্গের ১০ টি কারণ!!

পবিত্র রমজান মাসে আমরা সঠিকভাবে সবকয়টি রোজা পালন করতে চাই। কিন্তু আমরা অনেকে জানি না সঠিক নিয়মে কিভাবে রোজা পালন করা যায় এবং কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায়। চলুন এক নজরে রোজা ভেঙ্গে যাওয়ার কারণগুলো দেখে নেই।

  • সহবাস: কোনো রোজাদার ব্যক্তি যদি রোজা রাখা অবস্থায় স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত হয়, তাহলে তার বীর্যপাত হোক আর না হোক, সঙ্গে সঙ্গে তার রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে।
  • পানাহার বা নাক দিয়ে খাদ্য গ্রহণ: এভাবে গ্রহণে সেটা উপকারী হোক বা অপকারী হোক,হালাল হোক অথবা হারাম হোক,আর অল্প হোক বা বেশি হোক রোজা ভেঙে যাবে।
  • ইচ্ছাকৃত বমি: যদি কোনো রোজাদার ব্যাক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে বমি করে,তাহলে তার রোজা ভেঙ্গে যাবে। এছাড়া রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে সে যেন পরবর্তীতে রোজা ক্বাজা করে নেয়। (মুসলিম)
  • সঙ্গম ব্যতীত অন্য পন্থায় বীর্যপাত: কোনো ব্যক্তি রোজা রেখে সহবাস ব্যতিত অন্যপন্থায় যদি যৌনস্বাদ নেয়ার জন্য স্পর্শকাতর কোনো যুবতী যৌবনা নারী সংস্পর্শে আসে এবং তাকে চুম্বন করে অথবা জড়িয়ে ধরে ও হস্তমৈথুন করে ইত্যাদির মাধ্যমে বীর্যপাত ঘটায় তাহলে তার রোজা ভেঙে যাবে।
  • পানাহারের বিকল্প: কোনো রোজাদার ব্যাক্তি যদি পানাহারের বিকল্প উপায়ে খাবার গ্রহণ করে অথবা রক্তগ্রহণ করে ও শক্তিবর্ধক স্যালাইন গ্রহণ এমনকি ইঞ্জেকশন যা আহারের কাজ করে অর্থাৎ গ্লুকোজ ইনজেকশন ইত্যাদি ব্যাবহার করে সেই ব্যাক্তির রোজা ভেঙ্গে যাবে।
  • হায়েজ-নেফাস: কোনো রোজাদার মহিলাদের হায়েজ (ঋতু) ও নেফাস (প্রসবজনিত রক্তক্ষরণ) হওয়া এছাড়াও যদি ইফতারের কিছু সময় পূর্বেও হয় তাহলেও সেই ব্যাক্তির রোজা ভেঙে যাবে।
  • বেহুশ হওয়া: কোনো রোজাদার ব্যাক্তি যদি ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত বেহুশ থাকে, তাহলে তার রোজা শুদ্ধ হবে না ও তাকে ওই দিনের রোজা ক্বাজা রাখতে হবে।
  • নিয়ত বাতিল: নিয়ত প্রত্যেক ইবাদত অন্যতম রুকন। আর রোজার ক্ষেত্রেও এটা ব্যাতিক্রম নয়। সারাদিন সে নিয়্যত নিরবিচ্ছিন্নভাবে মনে জাগ্রত রাখতে হবে যে,আমি রোজাদার। যাতে রোজা না রাখার অথবা রোজা বাতিল করার কোনো দৃঢ় সংকল্প না করে বসে। তাছাড়া রোজা না রাখার নিয়ত করলে এবং রোজাদার ব্যাক্তির নিয়্যত বাতিল করে দিয়ে সারাদিনের পানাহার না করে উপবাস থাকলেও রোজা বাতিল বলে গণ্য হবে। তাই আমরা নিয়্যত করব এবং নিয়ত রাখবো।
  • দূষিত রক্ত বের করা: কোনো রোজাদার ব্যাক্তির দেহ থেকে দূষিত রক্ত বের করলে রোজা নষ্ট হবে কি হবে তা নিয়ে রয়েছে কিছু মতপার্থক্য। কিন্তু আসল কথা হলো দিনের বেলায় রোজা থাকা অবস্থায় এ কাজ না করাই উত্তম
  • মুরতাদ্ হওয়া: কোনো রোজাদার ব্যাক্তি যদি তার কোনো কথা অথবা কাজের পরে যদি মুরতাদ্ (কাফের) হয়ে যায়, (আল্লাহর কাছে এই কাজ থেকে আশ্রয় চাই) তাহলে ওলামায়ে কেরামের সর্বসম্মতিক্রমে তার রোজা ভেঙ্গে বাতিল হয়ে যাবে। তবে সে যদি তাওবা করে পুনরায় মুসলিম হয়, তাহলে ওই রোজা তাকে ক্বাযা করতে হবে। কিন্তু যদিও সে ওই দিনে রোজা নষ্টকারী কোনো কাজ বা কোনো জিনিস ব্যবহার করেননি।

সর্বশেষে বলা যায়,উক্ত কার্যাবলী থেকে নিজেদেরকে হেফাজত করে সুন্দরভাবে রোজা পালন করাই হবে আমাদের (মুসলিম) জীবনের একান্ত কাজ।

Be the first to comment on "দেখে নিন রোজা ভঙ্গের ১০ টি কারণ!!"

Leave a Reply