দিনাজপুরে ষষ্ঠ শতকের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা

https://www.bdnow24.com/category/বাংলাদেশ/

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক ঐতিহাসিক স্থান ও নিদর্শন রয়েছে। এর মধ্যে সীতাকোট বৌদ্ধ বিহার একটি অন্যতম নিদর্শন। এই নিদর্শনকে ঘিরে রামের পত্নী সীতাকেও নিয়ে রয়েছে কল্পকাহিনী। সীতাকে পঞ্চবটীর বনের গভীরে বনবাস দিয়ে তার থাকার জন্যে তৈরি করে দেয়া হয়েছিল একটি কুঠির- যা কিনা ‘সীতারকোট’ নামে খ্যাত।

আসলে সীতার সঙ্গে এই বিহারের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। ১৯৬৮ ও ১৯৭২ সালে দু-দফায় আংশিক খননের পর দেখা গেছে এটা একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার ছিল- প্রত্নতত্ত্ব অনুসন্ধানকারী একটি দল একই অভিমত করেছেন।

জানা যায়, সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে তার রাজ্যের মধ্যে ৮৪ হাজার স্তূপ স্তম্ভ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ওই সময় থেকে শুরু করে ৬ষ্ঠ শতাব্দী পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে বহু বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু হয়। যার একটি ছিল আলোচিত এই সীতারকোট বৌদ্ধ বিহার।

নবাবগঞ্জ উপজেলার সদর থেকে পশ্চিম দিকে বিরামপুরগামী রাস্তার উত্তর পাশে গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের ফতেপুর মাড়াষ মৌজার প্রায় ১ একর ভূমির উপর এই বিহার অবস্থিত।

প্রাপ্ত তথ্য জানা যায়, এই বিহার পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা ২১৪ ফুট, উত্তর দক্ষিণ প্রস্ত ২১২ ফুট। শৌচাগার ছাড়া ছোট বড় কক্ষের সংখ্যা ৪১টি। বেষ্টনী প্রাচীর সাড়ে ৮ ফুট, সামনে প্রাচীর ৫ ফুট, বারান্দা ৮ ফুট, বারান্দার সামনের প্রাচীর ৫ ফুট প্রশস্ত। কক্ষে প্রবেশের পথ ৩ থেকে ৫ ফুট প্রশস্ত। মূল প্রবেশ পথ উত্তর দিকে। প্রবেশের পথের মুখের দুই পার্শ্বে পাশাপাশি ২টি করে চারটি কক্ষ আছে। পাটিশন প্রাচীরের প্রশস্ত চার ধরনের। ১৩ ফুট ৫ ফুট ও ৪ ফুট। বিহারের ভেতরে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে একটি কূপ ছিল। বর্তমানে কূপটি ভরাট হয়ে গেছে। বিহারের বাইরে পূর্ব-দক্ষিণ দিকে পাশাপাশি পাঁচটি কুটির দেখা যায়। সম্ভবত এগুলো টয়লেট হিসেবে ব্যবহার হতো। মূল মন্দির ছিল দক্ষিণ দিকের মাঝখানে। প্রত্যেক কক্ষের সামনের দেয়াল ছাড়া বাকি ৩ দেয়ালে তাক কুলঙ্গী ছিল। প্রত্যেক কক্ষে প্রবেশের একটি মাত্র পথ আছে। বিহারের চার কোণায় ৪টি কক্ষে বেশ লম্বা পশ্চিম দিকে মাঝের অংশে রয়েছে একটি বড় কক্ষ। তার দক্ষিণে পার্শ্বের কক্ষটি খুব ছোট। এর কোন প্রবেশ পথ নেই। সম্ভবত এইটি গুপ্ত কক্ষ ছিল। 

সমগ্র ইমারতের গাঁথুনী লম্বা মধ্যম ও ছোট ইট এবং চুন সূরকী দিয়ে নির্মাণশৈলী দেখে গবেষকরা অনুমান করেন এ বিহার পশ্চিম শতাদ্বি কিংবা তার কিছু আগে নির্মিত হয়েছিল। বিহার খননের পরে বা আগে যেসব দ্রব্য পাওয়া গেছে, তা হলো নানা ধরনের হিরার বাইশ, মাটির পাত্রের ভাঙা অংশ, মাটির দোয়াত, লোহার পেরেক, নকশা করা মাটির তৈরি মাছ, মাটির পুতুল, নকশা ইট, লোকেশ্বর পাদ্যুপানী ও মজুশ্রী রোজ নির্মিত দুইটি মূর্তিসহ লোহার রিং ও রড।

Be the first to comment on "দিনাজপুরে ষষ্ঠ শতকের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*