কখনো কোন কথা উত্তরে ‘জানি না’ বলবেন না ! জেনে নিন কি বলবেন

একটু ভাবুন, শেষ যে বার কেউ আপনাকে কোনো প্রশ্ন করেছিল এবং আপনার কাছে কোনো উত্তর ছিল না। আপনার প্রতিক্রিয়া কি ছিল?

ধরুন আপনি সেসব লোকের দলগত যারা খুব সংক্ষেপে ‘আমি জানি না’ বলে কিছু এড়িয়ে যান, কথোপকথনে অব্যাহতি দেন। উপরন্তু আপনি দাবি করেন যে, সবকিছুর উত্তর দিতেই হবে এমনটা নয় কিংবা এর জন্য আপনি আপনার অজ্ঞতাকে ও দোষারোপ করেন না। তাহলে জেনে রাখুন, এটা কখনোই কার্যকরী যোগাযোগ রক্ষার কৌশল হতে পারে না।

এবং কখনোই আপনি জানার চেষ্টাও করেন না যে, এ সকল পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দিতে হয়।

এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হল কিছু বিকল্প বাক্য, যেগুলো দীর্ঘদিন যাবৎ আপনার ব্যবহার করা ‘আমি জানি না’ কথাটির পরিবর্তে ব্যবহার করা যেতে পারে।

পরবর্তীতে আপনার কাছে কোনো উত্তর না থাকলেও আপনি এই চারটি উপায় অবলম্বন করতে পারেন।

১. ‘আমি ভেবে দেখবো/আমি বিবেচনায় রাখলাম’

‘আমি জানি না’ এর পরিবর্তে এই উত্তরটা সত্যিই একটি কার্যকরী উত্তর হতে পারে। এটা সহায়ক ও আত্মপ্রত্যয় প্রমাণকারী উত্তরও বটে।

‘আমি জানি না’ বলার সময়ে যদি আপনার কাধ ও মুখাবয়ব স্থির না থাকে তাহলে এটা প্রমাণ করে যে, আপনার কাছে এর উত্তর নেই তা নয়। এতে বোঝায় যে, আসলে আপনি উত্তরটা দিতে চাইছেন না বা প্রশ্নকারীকে সরাসরি উপেক্ষা করছেন।

এর চেয়ে যদি আপনি তাকে আশ্বস্ত করেন বা উত্তরটা পেতে সাহায্য করেন তাহলে আপনার সম্পর্কে তার ইতিবাচক ধারণা চলে আসবে এবং আপনাকে মূল্যবান ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত করবে।

২. ‘আমারও একই প্রশ্ন’

এই বাক্যটা ব্যবহার করুন ওই সময়ে যখন আপনার কাছে কোনো উত্তর নেই কিন্তু আপনি বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইছেন না। অথবা আপনার সেই সম্বন্ধে আদৌ কোনো ধারণা ছিল না ওই সময়টাতে।

সেক্ষেত্রে আপনি যার সঙ্গে আলাপ করছেন তাকে এটা বোঝাতে চেষ্টা করুন যে, বিষয়টা নিয়ে সে যতদূর জানে আপনিও ততটুকুই জানেন কিন্তু প্রশ্নের উত্তরটা দুজনারই অজানা। কিন্তু দয়া করে ‘আমি জানি না’ কথাটি থেকে বিরত থাকুন। এটা স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, আপনার জবাবটা সত্যিই মূল্যহীন।

যা হোক, উপরোক্ত পথ অবলম্বন করলে এটা আপনার যোগাযোগে দক্ষতা আরেক ধাপ এগিয়ে দেবে। বরং আপনি যদি স্বাভাবিকভাবে প্রশ্নটার উত্তর এড়িয়ে যান তাহলে আপনি প্রশ্নকারীর চোখে মূল্যহীন হয়ে পড়তে পারেন। তার চেয়ে বরং দুজনে একইসঙ্গে উত্তরটা খোঁজার চেষ্টা করুন।

৩. ‘আমার অনুমান মতে …’

দুর্ভাগ্যবশত অনেক সময়ে আপনার কোনো উত্তর জানা না থাকলে অনুমান শক্তির শরণাপন্ন হতে হয় এবং অনুমান করে বুদ্ধিদীপ্ত একটা উত্তর দেওয়াই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা হয়ে দাড়ায় তখন। বাক-বিতণ্ডার মাঠে টিকতে হলে আপনাকে অবশ্যই তথ্য ও প্রমাণাদির ভিত্তিতে একটি উপসংহার দাড় করাতে হবে। ‘আমি জানি না’ বলে এড়িয়ে গেলে চলবে না।

যেসব ক্ষেত্রে আপনার অবশ্যই কোনো ব্যখ্যার ভেতরে যেতে হবে সেসব ক্ষেত্রে আপনি যতটুকু জানেন শুধু ততটুকটুই ব্যক্ত করুন। অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় কিছু নয়। অবশ্যই উত্তরটা সহজ, স্পষ্ট ও সাবলীল করার চেষ্টা করুন। যদি মনে করেন আপনার উত্তরটা অন্যের কাছে স্বাভাবিক লাগছে না, তাহলে নিজের সুবিধার্তে নানা ভঙ্গিতে এটা বোঝাতে চেষ্টা করুন যে, আপনি বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইছেন। অনুমান সঠিক প্রমাণে কিছু নতুন ধারণা উপস্থাপন করুন যেগুলো ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ‘আমি জানি না’ বলে পাশ কাটিয়ে যাবেন না। বরং তার আগে কিছু ভেবে নিন।

৪. আমরা কেন তাকে (ওই বিষয়ে জানেন বা জানতে পারেন এমন কেউ) জিজ্ঞেস করছি না?

আপনি কি করবেন যখন উত্তরটা আপনি সত্যিই জানেন না? দৃশ্যপটটা সহজে সামাল দিতে আপনার কি করণীয়? বিশ্বাসযোগ্য কার কাছে উত্তরটা পেতে পারেন?

খুবই সহজ। এমন কাউকে সেখানে সম্পৃক্ত করুন যে উত্তরটা দেবার যোগ্য বা তার জানা থাকতে পারে। প্রশ্নকারীকে এটা বোঝাতে চেষ্টা করুন যে, উত্তরটা খোঁজার পেছনে আপনারও যথেষ্ট প্রয়োজনবোধ রয়েছে। এক্ষেত্রে দক্ষ কারো সহযোগিতা নিতে অপরজনকে উৎসাহিত করুন। এই পদ্ধতি দক্ষ ও কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।

‘আমি জানি না’ এমনই একটা বাক্য যেটা প্রায়শই মুখ ফসকেও বেরিয়ে যায়। একবারও চিন্তা করি না, আমরা কি বলছি বা উত্তর আদৌ আমাদের জানা আছে কিনা! যদিও এর পেছনে তখন অনেক উত্তর দাড় করানো সম্ভব ছিল।

এই বিকল্প পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করে দেখুন একবার। এগুলো সত্যিই আপনাকে উপস্থিত বুদ্ধি ও যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করবে। সেইসঙ্গে কোনো ভাবনা চিন্তা ছাড়া হুট করে ‘আমি জানি না’ বলা বদঅভ্যাসটা রোধ করতেও সাহায্য করবে।

Be the first to comment on "কখনো কোন কথা উত্তরে ‘জানি না’ বলবেন না ! জেনে নিন কি বলবেন"

Leave a Reply