এমন জয়ও সম্ভব!

https://www.bdnow24.com/category/খেলাধুলা/

অবিশ্বাস্য, অভাবনীয়, অকল্পনীয়, অচিন্তনীয় এবং ‘অমানবীয়’। গতরাতে যারা হতাশ হয়ে বার্সেলোনার খেলা না দেখে ঘুমিয়ে পড়েছেন সকালে ঘুম থেকে উঠে চক্ষু চড়কগাছ হতে পারে তাদের। নিজের গায়েই চিমটি কেটে দেখতে পারেন। চোখ সত্য দেখছে তো! প্যারিস সেইন্ট জার্মেই’কে (পিএসজি) ৬-১ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা! এমনটা কি সম্ভব? ইতিহাসে যা কখনো হয়নি সত্যিই কি তা হয়েছে! ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে পিএসজি’র মাঠ থেকে বার্সেলোনা ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর সমর্থকদের এমন ভাবনাটাই স্বাভাবিক। ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ফিরতি লেগে বড় ব্যবধানে জিতে পরের রাউন্ডে যাওয়ার কোনো ঘটনাই তো ইতিহাসে নেই। কিন্তু এবার সেই অবিশ্বাস্য কাজটাই করলো স্পেনের ক্লাব বার্সেলোনা। নিজেদের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে ফিরতি লেগে পিএসজিকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করলো তারা। সফরকারীদের ৬-১ গোলে হারিয়ে নয়া ইতিহাস গড়লো লুইস এনরিকের দল। দুই লেগে ৬-৫ এগ্রিগেটে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটলো তারা। বার্সেলোনার এমন অবিশ্বাস্য জয়ের নায়ক ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার নেইমার। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নিজে দুই গোল করার পাশাপাশি অন্য একটি গোল বানিয়ে দেন। এছাড়া বার্সেলোনার আরো একটি গোলে অবদান তার। প্রথম লেগে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর পরের রাউন্ডে উঠতে ফিরতি লেগে বার্সেলোনাকে ৫-০ গোলে জিততে হতো। এই ‘অসম্ভব’কে সামনে নিয়ে ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন লুইস সুয়ারেজ। সপ্তাহখানেক আগে এই সুয়ারজে বলেছিলেন, প্রথম লেগে এমন পিছিয়ে পড়েও পরের রাউন্ডে যদি কোনো ক্লাব যেতে পারে তাহলে সেটা একমাত্র বার্সেলোনার পক্ষেই সম্ভব। এদিন মাঠের নামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই যেন নিজের কথার যথার্থতার প্রমাণ দেয়া শুরু করেন। এরপর ৪০ মিনিটে কুজাওয়ার আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান বাড়ায় বার্সেলোনা। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় কাতালানের ক্লাবটি। তখন পর্যন্ত পরের রাউন্ডে ওঠার আশা-নিরাশায় দুলছে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সেই আশার পালে আরো একটু হাওয়া লাগে। ৫০ মিনিটে প্রতিপক্ষের বিপদসীমায় নেইমারকে ফেলে দেয়া হয়। পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। তা থেকে স্বাগতিকদের ৩-০ গোলে এগিয়ে দেন লিওনেল মেসি। আর একটি গোল করলেই ম্যাচটি কমপক্ষে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়ানোর হিসাব তখন। এরই মধ্যে ৬২ মিনিটে সফরকারী প্যারিস সেইন্ট জার্মেই’র একটি গোল এনে দেন এডিনসন কাভানি। এতক্ষণ বার্সেলোনা যে আশা জাগিয়েছিল তা যেনে মুহূর্তেই চুপসে যায়। ম্যাচের ৮৮ মিনিট পর্যন্ত ৩-১ গোলে এগিয়ে বার্সেলোনা। খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়াতে তখনো প্রয়োজন ২ গোল। আর কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করতে প্রয়োজন তিন গোল। ম্যাচের নির্ধারিত সময় তখান বাকি মাত্র ২ মিনিট। এরপর হয়তো সর্বোচ্চ যোগ করার ৫ মিনিট পাওয়া যেতে পারে। এমন শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তে অবিশ্বাস্য কা- করে বসেন নেইমার। ৮৮ মিনিটে ডি বক্সের অনেক বাইরে থেকে এক ফ্রি-কিকের বল পিএসজির জালে জড়িয়ে দেন। কেঁপে ওঠে পুরো ন্যু ক্যাম্প। হালে পানি পায় স্বাগতিকরা। কিন্তু খেলা অতিরিক্ত সময়ে নিতে আরো এক গোল দরকার। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে পিএসজির ডি বক্সের মধ্যে লুইস সুয়ারেজকে ফেলে দেয়া হয়। পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। উত্তেজনায় তখন কাঁপছে পুরো ইউরোপ। কী হবে এবার। পেনাল্টি শট নিতে গেলেন নেইমার। দুর্দান্ত এক গোল করে ৫-১ গোলে বার্সাকে এগিয়ে দেন তিনি। ম্যাচপি আপাতত অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়ানোর পথে তখন। কিন্তু ম্যাচের একেবারে শেষ মিনিটে আরো একবার অবিশ্বাস্য হয়ে উঠলেন নেইমার। ডি বক্সের বের বাইরে থেকে পিএসজির গোল মুখের সামনে একটি ক্রস দিলেন তিনি। সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন সার্জি রবার্তো। দারুণ দক্ষতায় পিএসজির গোলরক্ষককে পরাজিত করেন তিনি। নেচে ওঠে পুরো ন্যু ক্যাম্প। কাতালুনিয়ায় শুরু হয় আনন্দের বন্যা। বার্সেলোনা ৬-১ গোলে জয় নিশ্চিত করে। মাঠের মধ্যে ছুটে যান বার্সেলোনার কর্মকর্তারা। কার সাথে কে আলিঙ্গন করবেন তা যেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না তারা। এক অবিশ্বাস্য আখ্যানের জন্ম দিয়ে ইতিহাস গড়ে বার্সেলোনা উঠে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। ​

Be the first to comment on "এমন জয়ও সম্ভব!"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*