ইচ্ছাপুরণ গাছ!


 মনে করুন আপনি মনের ইচ্ছা ব্যক্ত করে চিঠি লিখলেন, আর তা গিয়ে পৌঁছলো একটি গাছের গর্তে। কিন্তু চিঠিতে আপনি যে ইচ্ছের কথা লিখেছিলেন তা ঠিকই পূরণ হয়ে গেল। তাহলে কেমন হয়!
বিষয়টি শুনতে আষাঢ়ে গল্প মনে হলেও জার্মানির ইউটিনের ডোডাউয়ের বনে রয়েছে এমন গাছ। আপনি যদি ওই ওক গাছ বরাবর চিঠি লিখেন তবে তা ঠিকই গাছটির নিকট পৌঁছাবে এবং ভাগ্য ভালো থাকলে আপনার মনোবাসনাও পূরণ হয়ে যেতে পারে। কারণ শতবর্ষী এই গাছটির রয়েছে নিজস্ব যোগাযোগের ঠিকানা।
জনশ্রুতি আছে গত একশ বছরে কয়েক হাজার মানুষ এই গাছের কাছে চিঠি লিখেছে এবং  শত শত লোকের মনের ইচ্ছা পূরণও হয়েছে। যেমন অনেকে তাদের মনের মানুষ খুঁজে পেয়েছেন। এই ওক গাছটি ‘ব্রাইডগ্রুম ওক’ নামে পরিচিত। এটি পাঁচশ বছরেরও বেশি পুরনো। কথিত আছে, সেল্টিক সর্দারের পুত্র ধন্যবাদস্বরূপ এই বনে এই গাছটি রোপণ করেছিলেন। কারণ এক সময় সেল্টিক সর্দারের ছেলেকে বনে একটি গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছিল এবং পরে একটি খ্রিস্টান মেয়ে তাকে মুক্ত করে। যদিও এই জনশ্রুতি সত্য নয় বলে মনে করেন ইতিহাসবিদরা।তাদের ধারণা, খ্রিস্টান মিশনারিজরা এটি আবিষ্কার করেছিলেন।শোনা যায়, একশ বছর আগে সেখানে ওহর্ট নামে একটি মেয়ে ছিল। যে একজন চকলেট বিক্রেতার ছেলের প্রেমে পড়েছিল। মেয়েটির বাবা ছিল প্রধান বন কর্মকর্তা। তিনি তাদের এই সম্পর্ক মেনে নেননি। তাই তারা গোপনে গাছের গর্তে চিঠি রেখে মত বিনিময় করত। অবশেষে ওই প্রেমিকযুগল ১৮৯১ সালের ২ জুন এই গাছের নিচেই বিয়ে করে।

এরপর এই গাছের গল্প সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক বছরের মধ্যে মানুষ তাদের ভালোবাসার সঙ্গী খুঁজে পাওয়ার প্রত্যাশায় চিঠি লিখে গাছটির গর্তে রেখে আসতে শুরু করেন। গাছটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয় ১৯২৭ সালে যখন জার্মান ডাকবিভাগ গাছটিকে তার নিজের একটি পোস্ট কোড বরাদ্দ দেয় যাতে সারা দেশ থেকে মানুষ গাছটিকে লিখতে পারেন।
গাছের শরীরে দৃশ্যমান গর্তটি চিঠির বাক্স। যে কেউ এটি খুলতে পারে, চিঠি পড়তে পারে এবং চিঠির উত্তরও দিতে পারে। কয়েক দশক ধরে, গাছটি এক প্রকার ম্যাচমেকিংয়ের ভূমিকা পালন করছে। জনশ্রুতি আছে ওক গাছটির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষ তাদের মনের মানুষ খুঁজে পেয়েছেন এবং তাদের বিয়ে ​​হয়েছে।
কার্ল হেইঞ্জ মার্টেনস অবসরপ্রাপ্ত ডাক হরকরা। গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে গাছটির চিঠি গাছের গর্তে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি নিজেও তার স্ত্রীকে খুঁজে পেয়েছিলেন গাছটির কাছে চিঠি লিখে। ওক গাছটি এখনো দিনে প্রায় পাঁচ থেকে ছয়টি চিঠি পায়।

Be the first to comment on "ইচ্ছাপুরণ গাছ!"

Leave a Reply