আবারও শুরু হয়েছে ভৈরবের খননকাজ 

​নদীমাতৃক বাংলাদেশে শুকনো মৌসুমে নদী শুকিয়ে গেলেও বর্ষায় আবার হয়ে ওঠে কানায় কানায় ভরপুর।  শুধু পানিই নয়, পানির সাথে চলে আসে পলি।  সেই পলি উর্বর করে মাটিকে। যার মাধ্যমে আমরা ভালো ফসল উৎপাদন করতে সক্ষম হই। 

https://www.bdnow24.com/category/বাংলাদেশ/
উপকারের পাশাপাশি কিছু সময় অপকার ও করে পলি।  যেই পরিমাণ পলি নদীর পানিতে আসে সে পরিমাণ পলি চলে যায়না।  পানি থিতিয়ে গিয়ে নদীর তলায় জমা হয় পলি।  নদীর নাব্যতা হ্রাস পায় ধীরে ধীরে।  এর ফলে নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পেয়ে অপ্রত্যাশিত ভাবে বন্যার সৃষ্টি করে।  


অপ্রত্যাশিত এই বন্যাকে মোকাবেলা করার জন্য নদী খনন করা একান্ত প্রয়োজন।  অনেক নাটকীয়তার পর আবার শুরু হয়েছে ভৈরব নদের খনন কার্যক্রম।  

এর আগে ২০১০ সালে নওয়াপাড়া নদীবন্দর এলাকায় ভৈরব নদের ছয় কিলোমিটার খনন করেছিল বিআইডব্লিউটিএ। এরপর ওই বছর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) খুলনা থেকে নওয়াপাড়া পর্যন্ত ভৈরব নদের ২৫ লাখ ঘনমিটার খনন করার পরিকল্পনা নিয়েছিল। কিন্তু ২০১১ সালে এডিবি প্রকল্পটি বাতিল করে। নতুন এই খনন কাজের প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৪ কোটি টাকা।  

বিআইডব্লিউটিএ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, খুলনা থেকে নওয়াপাড়া পর্যন্ত ভৈরবের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে নদের খুলনা থেকে ফুলতলা পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার অংশের অবস্থা ভালো। খুলনার ফুলতলা থেকে নওয়াপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার অংশের অবস্থা বেশ খারাপ। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা নওয়াপাড়া নদীবন্দরের প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার অংশে। 

অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. দিদার এ আলম বলেন,  নদ খননের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। খনন করা মাটি ফেলার জায়গা নির্ধারণ করার পর নদটি খনন শুরু হবে। প্রথমে খুলনার ফুলতলা থেকে যশোরের নওয়াপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে। এর মধ্যে নদের অনেক জায়গা বেশি উঁচু হয়ে আছে। ওই সব জায়গায় পণ্যবাহী জাহাজ আটকে যাচ্ছে। আমরা আগে ওই জায়গাগুলো খনন করব। পর্যায়ক্রমে খুলনা-নওয়াপাড়া নৌপথের অবশিষ্ট অংশ খনন করা হবে।

Be the first to comment on "আবারও শুরু হয়েছে ভৈরবের খননকাজ "

Leave a comment

Your email address will not be published.


*